গাজা দখল ইস্যুতে সমালোচনার মুখে বক্তব্য পরিবর্তন নেতানিয়াহুর

গাজা সম্পূর্ণ দখল করার ইচ্ছা প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার মধ্যে শুক্রবার তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলের লক্ষ্য গাজা দখল নয়, বরং হামাসের নিয়ন্ত্রণ থেকে অঞ্চলটিকে মুক্ত করা। তিনি বলেন, “গাজাকে অসামরিকীকরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি, হামাস বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবে না।”
এর আগে ৫ আগস্ট তেল আবিবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ায়েল জামিরকে উদ্দেশ করে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে বলেন, পুরো গাজা দখলের জন্য সর্বত্র অভিযান চালাতে হবে। এমনকি হামাসের জিম্মিদের অবস্থান সন্দেহভাজন এলাকাগুলোতেও অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। এ নিয়ে সেনাপ্রধান আপত্তি জানালে নেতানিয়াহু তাকে দায়িত্ব পালন বা পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দেন।
যদিও বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যরা নেতানিয়াহুর সঙ্গে একমত হন, সেনাপ্রধান সতর্ক করেন যে গাজা পুরোপুরি দখল ইসরায়েলি সেনাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং জিম্মিদের জীবন বিপদে পড়তে পারে।
গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও নেতানিয়াহু গাজা দখলকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ বক্তব্যের পর ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সৌদি আরব, মিসরসহ বহু দেশ তার নিন্দা জানায়। জার্মানি ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদও কঠোর সমালোচনা করেন।
চাপের মুখে শুক্রবার নেতানিয়াহু আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন লক্ষ্য হিসেবে হামাসমুক্ত গাজার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সূত্র: সিএনএন
ভোরের আকাশ//হ.র