হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফা পারমাণবিক আলোচনা শুরুর সময় ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
ইরান সরকারের দাবি, সরাসরি সামরিক মহড়া পরিচালনার কারণে নিরাপত্তা ও নৌচলাচল-সংক্রান্ত উদ্বেগের জন্য কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রণালীটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কূটনৈতিক বার্তা।
যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে বিপুল সামরিক শক্তি জড়ো করছে এবং চুক্তি না হলে ইরানের ওপর হামলার হুমকিও দিয়েছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য গবেষণা কর্মসূচির পরিচালক সিনা আজোদি বলেন, আলোচনার দিনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কাকতালীয় নয়। তার মতে, পারস্য উপসাগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব দেখাতে ইরান এমন বার্তা দিতে চেয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যেও দুই পক্ষের কর্মকর্তারা আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ওমান মধ্যস্থতা করেছে। আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ভালো হয়েছে এবং পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। তবে তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা ঠিক করেছেন, যেগুলো ইরান এখনও পুরোপুরি মানতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, উভয় পক্ষ কিছু মূল নীতিগত বিষয়ে সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ বিন হামুদ আল বুসাঈদি বলেন, আলোচনা অভিন্ন লক্ষ্য ও কারিগরি বিষয় চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি এনেছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
ভোরের আকাশ/আ.র