ইরানে মার্কিন হামলায় ৭ সেনা নিহত, আহত ২৬০

ইরানে রাতভর ব্যাপক হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এই হামলায় ইরানের সাত সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে সর্বশেষ হামলায় ২৫০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার (১৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানশাহরের বাম্বুর গ্যারিসনে চালানো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দেশটির সামরিক বাহিনী এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, উপযুক্ত সময়ে এর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাম্বুরের একটি ব্যারাকে ১৩টি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ৩৮৮তম ব্রিগেডের সাত সেনাসদস্য নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে কেরমানপুর জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৮ বছরের কম। এছাড়া হামলায় অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন বাহিনী ইরানের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের কথাও জানানো হয়েছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে এফ-১৮ যুদ্ধবিমান রাখার এলাকা এবং বড় সরঞ্জামের হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ঘাঁটির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, নৌ-সহায়তা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, গুদাম ও জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে কুয়েত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ড্রোন প্রতিহত করার সময় দেশজুড়ে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা গেছে বলেও জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান রসদ ও সহায়তা কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। ‘নাসর-২’ অভিযানের চতুর্থ ধাপের অংশ হিসেবে চালানো ওই হামলায় ঘাঁটিতে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। সূত্র: আল জাজিরা
ভোরের আকাশ/সু.পা