শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আধুনিক কাতারের রূপকার কে এই শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি?

নুর আলম সিদ্দিকী

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্র কাতারকে আধুনিক রূপ দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। মাত্র ১৮ বছরের শাসনামলে তিনি ছোট্ট মরু রাষ্ট্রটিকে অর্থনীতি, জ্বালানি, কূটনীতি, শিক্ষা, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিক থেকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন। এ কারণেই তাকে ‘আধুনিক কাতারের রূপকার’ বা Father Emir নামে অভিহিত করা হয়।

শৈশব ও শিক্ষা

১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত Royal Military Academy Sandhurst থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৭ সালে তিনি যুবরাজ (Crown Prince) ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হন। এরপর দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

যেভাবে কাতারের নেতৃত্বে আসেন

১৯৯৫ সালের ২৭ জুন রক্তপাতহীন এক প্রাসাদ পরিবর্তনের মাধ্যমে শেখ হামাদ কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর টানা ১৮ বছর দেশ পরিচালনা করে ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা নিজের ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের এমন ঘটনা ছিল অত্যন্ত বিরল।

প্রাকৃতিক গ্যাসে বদলে দেন কাতারের ভাগ্য

শেখ হামাদের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল কাতারের বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে কাজে লাগানো। তার নেতৃত্বে North Field গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানিতে কাতার বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

তার আমলে কাতারের জিডিপি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় এবং মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

আল জাজিরার প্রতিষ্ঠা

১৯৯৬ সালে শেখ হামাদের উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পরিবেশনে নতুন দিগন্তের সূচনা করে এই গণমাধ্যম, যা পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।

শিক্ষা ও উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ

শেখ হামাদ শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন। তার সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয় Qatar Foundation, যা বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অবকাঠামো উন্নয়নেও ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়।

মুসলিম বিশ্বের জন্য তার অবদান

শেখ হামাদ শুধু কাতারের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর জন্য শত শত মিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন সহায়তা ঘোষণা করেন এবং ২০১২ সালে গাজা সফর করে সেখানে যাওয়া প্রথম আরব রাষ্ট্রপ্রধান হন। গাজায় আবাসন, সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে কাতারের বড় বিনিয়োগ তার উদ্যোগেই শুরু হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে কাতারকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সুদান, লেবানন, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে কাতার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতেও কাতারের ভূমিকা তার সময়েই শুরু হয়, যা পরবর্তীতে আফগানিস্তান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ তৈরি করে।

মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা, দাতব্য কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্পেও তার সরকার নিয়মিত অর্থায়ন করেছে

২০২২ বিশ্বকাপের স্বপ্ন

তার শাসনামলেই কাতার ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব অর্জন করে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ আয়োজনের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়।

সংবিধান ও সংস্কার

শেখ হামাদের সময় কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। পৌর নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি Qatar National Vision 2030 গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে জ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

মৃত্যু

২০২৬ সালের ১২ জুলাই ৭৪ বছর বয়সে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে কাতারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গভীর শোক প্রকাশ করেন।

উত্তরাধিকার

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি শুধু একজন শাসক নন; তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার, উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা, শিক্ষা ও গণমাধ্যমে বিনিয়োগ এবং সক্রিয় কূটনীতির মাধ্যমে তিনি কাতারকে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত করেন। তাই আজও তাকে আধুনিক কাতারের স্থপতি ও রূপকার হিসেবে স্মরণ করা হয়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, আল জাজিরা, কাতার নিউজ এজেন্সি (QNA), বিবিসি

ভোরের আকাশ/এনএ

কাতার এয়ারওয়েজশেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি

শেয়ার করুন: