মজুত জ্বালানি বাজারে ছাড়তে ফ্রান্স-জার্মানিকে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার জন্য ফ্রান্স ও জার্মানির ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মজুত ডিজেল বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এ উদ্যোগ ইউরোপের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশের জ্বালানির দাম কমাতে ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কমিশন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, ফ্রান্স ও জার্মানি জরুরি তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত ছাড়ার বিষয়ে দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো এবং ভোক্তাদের ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা ইউরোপের স্বার্থের মধ্যেই পড়ে।
ইউরোপের একটি রাজধানীভিত্তিক দ্বিতীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ইইউকে জরুরি মজুত থেকে ১২ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়ার অনুরোধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইইউভুক্ত দেশগুলোর কাছে প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টন জরুরি অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি মজুত রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় ইউরোপকে মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপ থেকে নতুন করে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে শিগগিরই ঘোষণা আসবে বলে তারা আশা করছেন। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল রপ্তানি কিছুটা কমলেও তা পুনরুদ্ধার হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে চীন থেকেও ডিজেল রপ্তানি কমেছে বলে উল্লেখ করেন রাইট।
এ বিষয়ে জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফ্রান্সের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাক্ষাৎ করলেও এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন এলিজে প্রাসাদের এক কর্মকর্তা।
তবে তিনি জানান, জ্বালানির বাড়তি দাম এবং পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জি-৭ নেতাদের নিয়ে একটি ভিডিও সম্মেলনের আয়োজন করবেন ম্যাক্রোঁ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি মজুত ছাড়ার বিষয়টিও ওই বৈঠকে আলোচিত হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
ভোরের আকাশ/এনএস