প্রেমিকার স্বামীকে ফাঁসাতে মাদক পাঠিয়ে পুলিশকে খবর দিলেন প্রেমিক

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলায় এক নববিবাহিত যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে তার স্ত্রীর সাবেক প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই যুবকের ঠিকানায় মাদকের পার্সেল পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করানোর পরিকল্পনা করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, চলতি মাসের শুরুতে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ গোপন তথ্য পায় যে গান্দেরবাল জেলায় একটি মাদকের চালান পৌঁছাতে যাচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি পার্সেল জব্দ করে পুলিশ।
পরে পার্সেলটি যে ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল, সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে প্রাপক একজন পোলট্রি খামারি, যার বিয়ে হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে। তিনি পুলিশকে জানান, পার্সেলটিতে পোলট্রির খাবারের নমুনা থাকার কথা ছিল। ভেতরে মাদক রয়েছে—এ বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবক পুলিশকে আরও জানান, চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের একটি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে বিয়ে না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। এই তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
পরবর্তীতে ওই যুবকের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শ্রীনগরের জাইনাকোট এলাকার তারিক আহমেদ সোফির নাম উঠে আসে। পুলিশের দাবি, সোফি ওই নারীর সাবেক প্রেমিক এবং প্রতিশোধ নিতে নববিবাহিত যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। ৯ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পার্সেলটি খোলা হলে সেখানে চার কেজি কোকেন, ৮০ গ্রাম গাঁজা এবং কিছু সাইকোট্রপিক মাদক পাওয়া যায়। পার্সেলটি উত্তর প্রদেশের কানপুর থেকে পাঠানো হয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পোলট্রির খাবারের নমুনা পাঠানোর কথা বলে ওই যুবকের ঠিকানা সংগ্রহ করেছিলেন। ব্যবহৃত নম্বরটি ছিল সৌদি আরবের।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারিক আহমেদ সোফি জানিয়েছেন, কানপুরের আরিব নামে তার এক বন্ধু তার অনুরোধে পার্সেলটি পাঠিয়েছিলেন। তবে আরিব পুরো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতেন কি না, কিংবা তিনি নিজেই মাদক সংগ্রহ ও পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন কি না—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং মাদক সংগ্রহ ও পাঠানোর পুরো নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনএ