নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন ভেনেজুয়েলার নোবেলজয়ী মাচাদো

প্রায় এক বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বিরোধী রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের পর রোববার (২৫ অক্টোবর) আবারও ভেনেজুয়েলায় দেখা গেছে মাচাদোকে।
গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মাচাদো। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি ভেনেজুয়েলা ছেড়ে সুইডেনে যান এবং সেখানে নিজের হাতে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন।
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগে মাচাদো ভেনেজুয়েলার প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির নেত্রী হিসেবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। নোবেলজয়ের পর নিকোলাস মাদুরোর সরকারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ আরও তীব্র হয়। একপর্যায়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে দেশ ছাড়েন।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ডেল্টা ফোর্স ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এ পরিস্থিতিতে মাচাদোও প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রচেষ্টা চালান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন না পাওয়ায় দেশটির নেতৃত্বে আসতে পারেননি মাচাদো। ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার আশায় তিনি নিজের নোবেল পুরস্কার তাঁকে দেওয়ার উদ্যোগ নেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে মাচাদোর পরিবর্তে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দায়িত্ব দেন ট্রাম্প।
ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় মাচাদোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার আপাতত তাঁর হাতে সরাসরি ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পরিবর্তে ডেলসি রদ্রিগেজের মতো অভিজ্ঞ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকের নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প সচল রাখতে রদ্রিগেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সূত্র: এপি
ভোরের আকাশ/সু.পা