শিরোনাম
দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সুযোগগুপ্তদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদের নতুন সখ্যতা প্রমাণিত: রিজভীমোংলা বন্দরকে নতুন অর্থনৈতিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে: নৌপরিবহনমন্ত্রীসকল ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকারআমরা দেশের সব খুনের বিচার করতে চাই: আইনমন্ত্রীটেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহতনতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারেররাজধানীতে ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনাদেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সুযোগগুপ্তদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদের নতুন সখ্যতা প্রমাণিত: রিজভীমোংলা বন্দরকে নতুন অর্থনৈতিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে: নৌপরিবহনমন্ত্রীসকল ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকারআমরা দেশের সব খুনের বিচার করতে চাই: আইনমন্ত্রীটেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহতনতুন ৩টি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারেররাজধানীতে ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব বৃদ্ধির মধ্যেই সোমবার (৯ নভেম্বর) তুরস্কে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন কপ৩১। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু তহবিল এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর প্রশ্নে মতবিরোধের কারণে সম্মেলন থেকে বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা কম। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর আনতালিয়ায় জাতিসংঘের দুই সপ্তাহব্যাপী এই জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এক লাখের বেশি মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যা, ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ ও ইন্দোনেশিয়ায় বড় ধরনের দাবানলের পর এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপও সম্মেলনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, আর্থিক সংকটে থাকা উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরও বেশি অর্থ দিতে আগ্রহী নয়।

এদিকে, চলতি বছরের শেষ দিকে এল নিনোর প্রভাবে জলবায়ু পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে ২০২৬ বা ২০২৭ সাল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানায়, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এটি তার চেয়েও বেশি।

বাস্তবায়নই এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য

এবারের কপ৩১ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে তুরস্ক। তবে একটি বিশেষ সমঝোতার আওতায় সম্মেলনের আলোচনা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। সম্মেলনটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে বিরোধের অবসান ঘটাতেই এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, “বিশ্বের জন্য অত্যন্ত কঠিন এক সময়ে কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো সহজ হবে না। তবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।”

কপ৩১-এর সভাপতি ও তুরস্কের পরিবেশমন্ত্রী মুরাত কুরুম বলেন, “অতীতের জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে নেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে এবারের সম্মেলন।”

আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি তুরস্ক একটি ‘অ্যাকশন এজেন্ডা’ বা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশগুলোকে স্বেচ্ছামূলক অঙ্গীকার গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে। এসব অঙ্গীকার বাধ্যতামূলক নয়।

এই কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো বিদ্যুতায়ন বাড়ানো। বর্তমানে বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০% বিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণ হয়। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার বাড়িয়ে ৩৫% করতে চায় তুরস্ক। তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া চায় বিদ্যুতায়ন বাড়ানোর বিষয়টি সম্মেলনের চূড়ান্ত রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রেও অন্তর্ভুক্ত হোক।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ‘পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতায়ন’-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ বিষয়টি তুরস্কের প্রস্তাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে বিরোধ

২০২৩ সালে কপ২৮ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল দেশগুলো। তবে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো মতৈক্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।গত বছরের কপ৩০ সম্মেলনেও জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ছাড়াই চুক্তি হয়। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর আপত্তির কারণে চূড়ান্ত চুক্তিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাষা রাখা সম্ভব হয়নি।

এর পরিবর্তে ব্রাজিল একটি স্বেচ্ছামূলক রূপরেখা তৈরি করে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিভিন্ন প্রস্তাব রাখা হয়। প্রতিটি দেশ নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, গত বছরের সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, কপ৩১-এ তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায়।

আরও পড়ুন

গুপ্তদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদের নতুন সখ্যতা প্রমাণিত: রিজভী

তবে উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে নতুন বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি ধনী দেশগুলো।

আফ্রিকার দেশগুলোর আলোচকরা দাবি জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অভিযোজন খাতে অর্থায়ন তিন গুণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি এবারের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ভোরের আকাশ/এনএস

শেয়ার করুন: