ট্রাম্পের মতো ক্লিনটনের সফরেও ছিল ছদ্মবেশী বিমানের ব্যবহার

সম্প্রতি ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই বিতর্কের আবহেই ফাঁস হলো আরো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রায় দুই দশক আগে, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাকিস্তান সফরের সময়েও একইভাবে ছদ্মবেশী বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রবীণ সাংবাদিক সুসান পেজ।
সুসান পেজের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ২০০০ সালের মার্চ মাসে বিল ক্লিনটন যখন ভারত থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণে সাংবাদিকদের এক বিশেষ ‘অফ-দ্য-রেকর্ড’ ব্রিফিংয়ে ডাকা হয়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীরা একটি বিকল্প পরিকল্পনা বা ছদ্মবেশী কৌশল বাস্তবায়নের কথা জানান। পরবর্তীতে দেখা যায়, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ চিহ্নিত একটি বিমান অবতরন করে।
সেখান থেকে হুবহু প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের মতো দেখতে এক সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা নেমে আসেন। তার ঠিক কিছুক্ষণ পরই কোনো চিহ্নিত নাম বা প্রতীক ছাড়া একটি সাধারণ বিমানে চড়ে নামেন মূল প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
বর্তমানে ইউএসএ টুডে’-র ওয়াশিংটন ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত সুসান পেজ জানান, দুটো ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান বদল করা হলেও দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পার্থক্য ছিল। ক্লিনটনের সফরের সময় সাংবাদিকদের আগেভাগেই সতর্ক করে কিছুটা ধারণা দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু ট্রাম্পের ঘটনার ক্ষেত্রে বিমানে থাকা সংবাদকর্মী ও হোয়াইট হাউস কর্মীদের পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়। ট্রাম্পকে বিমানবন্দর থেকে খাবার সরবরাহের ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি সাধারণ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। অথচ মূল বিমানটি সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে উড্ডয়ন করে এবং পুরো যাত্রাপথে তাদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিক ও কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে প্রেসিডেন্টকে একা সরিয়ে নিয়ে মূল বিমানকে ফাঁদ বা মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এই চতুর কৌশল নিয়ে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এই বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতারণার কথা স্বীকার না করলেও হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং বলেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনেক শত্রু ও হুমকি সামলাতে হয়, আর সে জন্য আমাদের হাতে থাকা সর্বোচ্চ কৌশলই প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে ট্রাম্প নিজেও একে সিক্রেট সার্ভিস-এর নির্দেশিত সাধারণ নিরাপত্তা প্রটোকল বলেই উল্লেখ করেছেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ