ইউক্রেনের জন্য ২১০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

ইউক্রেনের কাছে প্রায় ২১০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের ৫০০টি প্যাট্রিয়ট (Patriot) ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার তীব্র বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) আরও শক্তিশালী করতে ট্রাম্প প্রশাসনের মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই গুরুত্বপূর্ণ সবুজ সংকেত দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে অনুমোদন পেলেও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত ইউক্রেনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই। কারণ, এগুলো এখনো তৈরি করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে এগুলো সরবরাহ করা হতে পারে।
ইউক্রেনের জরুরি প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরবরাহের সময় এগিয়ে আনার জন্য পেন্টাগনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পরে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সেই মজুত পূরণের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের অর্থায়নে কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অবদান থাকবে। দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাম্পস্টার্ট’ (JUMPSTART) কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থ দেবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউক্রেন সাপোর্ট লোনের অর্থায়নে পরিচালিত জাতীয় তহবিল থেকেও অর্থ দেয়া হবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।
পেন্টাগনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে মিত্র দেশগুলোর অনুদানে অস্ত্র, সামরিক পরিষেবা ও প্রশিক্ষণ কেনার জন্য এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। গত আগস্টে এ কর্মসূচির আওতায় ৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে জোন ফাইভ টেকনোলজিস ও কোঅ্যাসপায়ারের তৈরি ৩ হাজার ৩৫০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হয়েছিল।
এ বিক্রির প্রধান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
রাশিয়ার হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা
রাশিয়ার ছোড়া ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ প্রতিহত করতে আরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন বলে দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ইউক্রেন। দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাকে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। একই দিন অন্য দুটি প্রাদেশিক শহরে দিনের বেলায় হামলায় পাঁচজন এবং রাজধানী কিয়েভে গভীর রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাশিয়া যখন জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বাড়াচ্ছে, তখন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদনের জন্য প্রায় এক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্কে টানাপোড়েনও বেড়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল কেনাবেচার চুক্তি করার পাশাপাশি রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ না করার জন্য জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মিত্র দেশগুলোকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করছে, অন্যদিকে ইরানে নিজেদের সামরিক অভিযানেও গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জুলাইয়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য লকহিড মার্টিনকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৮৬০ কোটি ডলারের চুক্তি দিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।
লকহিড জানিয়েছে, এ চুক্তির ফলে ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ পিএসি-৩ এমএসই (PAC-3 MSE) ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের ক্যামডেন কারখানায় কর্মীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ জনে উন্নীত করা হবে।
এর আগে লকহিড জানিয়েছিল, বছরে প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ ২ হাজারে উন্নীত করা হবে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আরও দ্রুত বাড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে পেন্টাগনের আলোচক দল। এ বছরের শুরুর দিকে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তিও হয়েছিল।
ভোরের আকাশ/আ.র