ফ্রান্সের ১৪০ শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ রূপ নিল দাঙ্গায়, গ্রেপ্তার দুই হাজার

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতের বেহাল দশার প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশজুড়ে ব্যাপক দাঙ্গায় রূপ নিয়েছে, যার ফলে দেশটির বিভিন্ন শহর থেকে ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংঘর্ষে ১৫০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রাজধানী প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ এবং লিমোজসহ প্রায় ১৪০টি স্থানে এই বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
দেশজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনায় ২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিক্ষোভে ৬০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য, জেন্ডারমেরি বাহিনীর সদস্য ও অগ্নিনির্বাপণকর্মী আহত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া কয়েক শ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রায় এক দশক আগে ফ্রান্সে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে সড়কে নেমে আলোচনায় এসেছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট থেকেও এবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার দুপুরের আগেই দেশটির প্রায় ১১০টি স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্যারিস, লিওঁ, নঁত ও রেনসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপক মিছিল বের হয়। গত মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ইতোমধ্যে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন।
ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইসহ বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশ ও দাঙ্গাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মার্সেইতে লোকজন কিছুক্ষণের জন্য সিটি হলে ঢুকে পড়ে এবং ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক মারিয়ানের একটি আবক্ষ মূর্তি ভেঙে ফেলে, কিন্তু পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
লিওঁ শহরে দাঙ্গাকারীরা একটি পর্যটন তথ্যকেন্দ্রে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের অনেকের পরনে ছিল কালো পোশাক, মুখোশ ও চোখের সুরক্ষাচশমা। অন্যদিকে, প্যারিসে হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করলেও কেন্দ্রীয় প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরে কয়েক শ বিক্ষোভকারীর সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স সরকার ব্যয় সংকোচনমূলক বাজেট পাসের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকার স্বীকার করেছে, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি যৌক্তিক। তবে তারা ‘নগর সহিংসতার’ নিন্দা জানিয়েছে। বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য বামপন্থী রাজনৈতিক দল ফ্রান্স আনবোডকে দায়ী করেছে সরকার। তবে দলটি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভোরের আকাশ/আ.র