শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গণভোটে ইইউতে যোগদানের প্রস্তাব নাকচ আইসল্যান্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে আইসল্যান্ডের জনগণ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভির সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, গণভোটে ‘না’ পক্ষ জয়ী হয়েছে।

ভোট গণনায় ‘না’ পক্ষ পেয়েছে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ পেয়েছে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। শেষ মুহূর্তে সামান্য কিছু ভোট গণনা বাকি থাকলেও সেগুলো এমন একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে, যেখানে ‘না’ পক্ষ এগিয়ে রয়েছে। ফলে ফলাফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এবারের গণভোটে সরাসরি ইইউতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করা হবে কি না। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সদস্যপদের শর্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হতো এবং পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সদস্যপদ গ্রহণের বিষয়ে আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো।

আইসল্যান্ডের সরকার এই ভোটকে দেশের ইউরোপীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ত্রুন ফ্রস্টাদোত্তির আগে বলেছিলেন, ‘না’ ভোট জয়ী হলে ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আপাতত বন্ধ হয়ে যাবে।

ইইউপন্থীরা বলেছিলেন, সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হলে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। উচ্চ সুদের হার কমানো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়গুলো তাঁদের প্রচারের অন্যতম যুক্তি ছিল।

অন্যদিকে ইইউবিরোধীরা সতর্ক করেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিলে আইসল্যান্ডের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মৎস্য খাত আইসল্যান্ডের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন মৎস্যনীতিও গণভোটের প্রচারে বড় বিষয় হয়ে ওঠে।

ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বক্তব্যের মতো আন্তর্জাতিক ঘটনাও আইসল্যান্ডের ইইউ বিতর্কে প্রভাব ফেলেছে। উত্তর আটলান্টিক ও উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে দেশটির ইউরোপীয় সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আইসল্যান্ড ২০০৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল। সে সময় দেশটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছিল। পরে ইউরোসংশয়ী সরকার ২০১৩ সালে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দেয়।

বর্তমানে আইসল্যান্ড ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শেঙ্গেন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তবে দেশটি এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়।

এবারের গণভোটে ‘না’ পক্ষ জয়ী হওয়ায় ব্রাসেলসের সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ আপাতত থেমে গেল। এর ফলে আইসল্যান্ডের ইইউ সদস্যপদ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কে ইউরোসংশয়ী অবস্থানই এখন বেশি জোরালো হলো।

আরও পড়ুন

পুলিশের অভিযানে ১১০ ট্যাপেন্টাডলসহ নারী আটক

তবে ভোটের ফল দেশটির ইউরোপীয় সম্পর্কের সব প্রশ্নের সমাধান করছে না। আইসল্যান্ড ভবিষ্যতে ইইউর সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখবে, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার পরিবর্তিত বাস্তবতায় দেশটির অবস্থান কী হবে—এসব প্রশ্ন সামনে থাকছে।

গণভোটের ফল এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউরোপ নিজের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে আইসল্যান্ডের সিদ্ধান্ত দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ইউরোপের বৃহত্তর কৌশলগত আলোচনাতেও গুরুত্ব পাবে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা

ভোরের আকাশ/ইউএম

আইসল্যান্ডনাকচগণভোটইইউ

শেয়ার করুন: