লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণের পর এবার লোহিত সাগরেও বাণিজ্যিক নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলতে দেবে না, যদি পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। সম্প্রতি ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। যদিও তারা জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। সোমবার ব্রেন্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলার ছাড়িয়েছে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশে। আয়ারল্যান্ড–এ জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা