তেলের দাম ২০০ ডলার ধরে আমেরিকার আগাম প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে—এমন ‘ওর্স্ট কেস সিনারিও’ বা আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে কৌশলগত প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।
ব্লুমবার্গ জানাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশ্লেষণের তথ্যের ভিত্তিতে তেলের সর্বোচ্চ দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ধরে নিয়ে আগাম অর্থনৈতিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
এই প্রস্তুতির তথ্য এমন একসময়ে সামনে এল যখন হোয়াইট হাউজ একদিকে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই দ্বান্দ্বিক অবস্থান বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্চের শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছিলেন, সংঘাতের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়ে ২০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও প্রভাবশালী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারি গ্রুপ মনে করছে, যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন যে মডেলিং বা ‘স্ট্রেস টেস্ট’ করছে, তা মূলত সংকটের মুহূর্তে মার্কিন অর্থনীতি কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে এবং কী ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে, তা যাচাই করার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। ওয়াশিংটন এখন আর এই পরিস্থিতিকে স্বল্পমেয়াদি সংকট হিসেবে দেখছে না, বরং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনা সাজাচ্ছে তারা।
জ্বালানির সম্ভাব্য এই চড়া মূল্যের প্রভাব এরই মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলো তাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নীতিগত চাপে রয়েছে এবং প্রয়োজনে সুদের হার বাড়ানোর কথা ভাবছে।
নিজস্ব তেল ও গ্যাস উৎপাদন থাকায় যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও দেশটিতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে সেখানে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ১ ডলার থেকে বেড়ে ৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এই প্রভাবকে এখনো অস্থায়ী মনে করলেও বিশ্লেষকরা একে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো। কারণ, তাদের সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এশিয়ার দেশগুলো এরই মধ্যে তাদের জরুরি মজুত তেল ব্যবহার শুরু করেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
ভোরের আকাশ/আ.র