ইউক্রেন সীমান্তে বেলারুশের নতুন কৌশল
ট্রাম্পের ডুবোজাহাজের মোকাবিলায় পুতিনের পরিকল্পনা
ইউক্রেন সীমান্তে বেলারুশ নতুন সামরিক বাহিনী গঠন করে নিরাপত্তা জোরদার করতে যাচ্ছে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর নির্দেশে সীমান্তে ‘স্পেশ্যাল অপারেশনস ফোর্সেস’ (এসওএফ) নামে একটি বিশেষ বাহিনী তৈরি করা হয়েছে।
এর অধীনে ইতোমধ্যে ‘রকেট আর্টিলারি ব্রিগেড’ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নতুন একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্রিগেড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-কে মেজর জেনারেল ভাদিম ডেনিসেনকো নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইতিমধ্যেই উত্তেজনায় পরিবেষ্টিত পরিস্থিতিতে আরও একটি মাত্রা যোগ করেছে।
ইউক্রেনের সীমান্ত এলাকায় বেলারুশের এই নতুন বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে রাশিয়ার মিত্র রাষ্ট্রটি তার প্রতিরক্ষা শক্তি দৃঢ় করছে। শীতকালের আগেই সীমান্তে বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনীর অবস্থান সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর পেছনে যুক্ত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণাও। ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্র বহনকারী ডুবোজাহাজ দুটি রাশিয়ার জলসীমায় মোতায়েনের ঘোষণা দেয়ার পরই বেলারুশ তার মিত্র রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের সীমান্তে চাপ বাড়াতে শুরু করে। ট্রাম্পের বিশ্লেষণ ছিল মেদভেদেভের (রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট) আমেরিকাসহ বাইরের সবাইকে হুঁশিয়ারি দেওয়া বক্তব্যের জবাবে এটি করা হয়েছে।
‘ডেড হ্যান্ড’ নামে পরিচিত স্বয়ংক্রিয় পরমাণু অস্ত্র প্রত্যাঘাত ব্যবস্থা ছিল সোভিয়েত যুগে তৈরি, যা প্রথম আঘাতে সেন্ট্রাল কমান্ড ধ্বংস হলেও প্রতিশোধমূলক আঘাত নিশ্চিত করে। মেদভেদেভের বক্তব্য এবং ট্রাম্পের ডুবোজাহাজ পাঠানোর মধ্যে পরিষ্কার সামরিক উত্তেজনা দেখায় এই অতীতের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আজও প্রাসঙ্গিক। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। বেলারুশে রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্রের একটি অংশ ইতোমধ্যে মোতায়েন রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে তার দেশের ভূখণ্ড রুশ ফৌজ মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, বেলারুশ-ইউক্রেন সীমান্তে লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ইউক্রেনও তার সীমান্ত এলাকায় প্রায় সোয়া লাখ সেনা জড়ো করেছে বলে শোনা যাচ্ছে, যা অঞ্চলে নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেলারুশের এই বিশেষ বাহিনী গঠন এবং রকেট আর্টিলারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তির উন্নয়ন হচ্ছে পুতিনের কৌশলের এক অংশ, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু ডুবোজাহাজের হুমকির মোকাবিলা করা যায় এবং ইউক্রেনে চাপ সক্রিয় রাখা হয়। বেলারুশের এই নতুন সামরিক একটি স্ট্রাটেজি পদক্ষেপ সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা ও সামরিক সংঘাতের মাত্রা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে রাশিয়া-পশ্চিম দ্বন্দ্বের নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোরের আকাশ/তা.কা