লাইভ সম্প্রচার করবে মৃত্যুদণ্ডের, বর্বরতার পথে যুক্তরাষ্ট্র?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ২০০৯ সালের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত সাবেক সামরিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এবং লাইভস্ট্রিম (সরাসরি সম্প্রচার) করার ঘোষণা দিয়েছে।
৮ অক্টোবর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা হবে আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথম কোনো প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম ও অদ্ভুত ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একটি দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া বা মৃত্যুদণ্ডকে এভাবে জনসমক্ষে বিনোদনের মতো লাইভ সম্প্রচার করা সভ্যতার চরম অবক্ষয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক শূন্যতার এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ।
পিট হেগসেথ অবশ্য দাবি করেছেন যে এই ধরনের অপরাধের যে গুরুতর পরিণতি হয়, তা সাধারণ মানুষকে বোঝাতেই এই প্রকাশ্য ব্যবস্থা। তবে সমালোচকরা একে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার নজির হিসেবে দেখছেন। বিশ্বের তথাকথিত সবচেয়ে বড় এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রটি যেভাবে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন উঠছে।
ভোরের আকাশ/আ.র