ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৪৮টি চুক্তি সই

প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ইরাক ও মার্কিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মধ্যে ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), সহযোগিতা চুক্তি ও অংশীদারিত্ব ঘোষণায় স্বাক্ষর হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এসব চুক্তির বড় অংশই জ্বালানি, বিশেষ করে তেল খাতসংশ্লিষ্ট।
তেলসমৃদ্ধ ইরাক কয়েক দশকের যুদ্ধ ও অস্থিরতা কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশটি এখনো দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল রফতানি ব্যাহত হওয়ায় রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে।
বাগদাদ থেকে এএফপি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা চুক্তি এবং অংশীদারিত্ব ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়েছে।’সরকারি নীতি
এসবের মধ্যে তেল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল ও হ্যালিবার্টনের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি বৃহৎ অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণ-সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিও সই হয়েছে।
ইরাক বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সাথেও একটি চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির সেবা চালু করা হবে।
গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদিকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলে অভিহিত করেন।
ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা আল-জায়েদি এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসেন। ট্রাম্প অন্য এক প্রার্থীর মনোনয়ন নাকচ করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
আল-জায়েদি ইরাকের দুর্বল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং দেশটিতে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন। এসব গোষ্ঠী অতীতে ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী ইরান উভয় দেশের সাথেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করে আসছে ইরাক।
ভোরের আকাশ/এম