চাদে তীব্র পানি সংকট, কূপের দখল নিয়ে সংঘর্ষ বৃদ্ধি

চাদের প্রত্যন্ত পূর্বাঞ্চলে তীব্র পানি সংকটের কারণে কূপের পানি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সংঘাত বাড়ছে। দরিদ্র ও প্রখর গরমে পুড়তে থাকা মরু অঞ্চলের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আবেচেতেও প্রায়ই কলে পানি থাকে না। দ্রুত নগরায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শহরটির জনসংখ্যা বর্তমানে পাঁচ লাখের বেশি। শহরের কিছু এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ থাকলেও তা নিয়মিত নয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রখর রোদের মধ্যে লালচে মাটির পথ ধরে রঙিন ওড়না পরা নারীদের জেরিক্যানে করে কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরতে প্রায়ই দেখা যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইসা মাহামাত বলেন, "দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কলে একেবারেই পানি থাকে না। গভীর রাতে আবার পানি সরবরাহ শুরু হয়।" তবে আবেচের অনেক এলাকার বাসিন্দার অবস্থা আরও করুণ। বাসিন্দা কাদিদজা এএফপিকে বলেন, "আমরা এখনো টাকা দিয়ে পানি কিনি। কলের পানির সুবিধা এখনো পাইনি।"
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চাদের ১০ শতাংশেরও কম পরিবার নিরাপদ ও সার্বক্ষণিক প্রবাহমান পানির সুবিধা পেয়েছে।
আধা-মরু অঞ্চল নিয়ে গঠিত চাদ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২০০৩ সালে দেশটি তেল উৎপাদন শুরু করলেও এখনো চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় সরকার পানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে।
২০১৯ সালে আবেচে থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের বিতেহা এলাকায় একটি পানি সরবরাহ প্রকল্প চালু করা হয়। প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি গভীর নলকূপ থেকে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে শহরের দুটি পানির টাওয়ারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক বাখিত ডিকি বারকাই বলেন, "মানুষের পানির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। বিতেহা-২ প্রকল্প চালু হলে উৎপাদন বাড়বে এবং আরও বেশি পরিবারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।" তিনি জানান, সংকট পুরোপুরি দূর না হলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বারকাই আরও বলেন, আগে তাপপ্রবাহের সময় পানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করত। তবে গত তিন বছরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ প্রতিদিন ২৫ হাজার ঘনমিটার পানি উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হলে আবেচেতে পানির সংকট অনেকটাই দূর হবে।
চিতেয়ে এলাকার বাসিন্দা আহমেদ ইউসুফ বলেন, "আমাদের এলাকায় নতুন পানির টাওয়ার নির্মাণ হওয়ায় এখন পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছি।" তবে নতুন অবকাঠামো এখনো পুরো শহরের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। শহর ও গ্রামের মধ্যে পানির প্রাপ্যতার বৈষম্য এখনো বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পানির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।
সম্প্রতি পানি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক ফোরামে চাদের প্রেসিডেন্ট মাহামাত ইদ্রিস দেবি ইতনো এ সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ১৫ জুলাই রাজধানী এন'জামেনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "যখন পানির স্তর নেমে যায় বা পানির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন দারিদ্র্য দ্রুত বাড়ে। মানুষ ও গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাতও বেড়ে যায়।"
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ও মধ্য আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশ চাদ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে আফ্রিকার সবচেয়ে অরক্ষিত দেশগুলোর একটি।
ভোরের আকাশ/সু.পা