শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’অবস্থান ধর্মঘট

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর সমর্থকরা। রোববার (২১ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র দাবদাহের মধ্যেও আন্দোলনকারীরা রাতভর রাস্তা ও ফুটপাতে অবস্থান করেছেন। পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যেই দ্বিতীয় দিনে আরও বহু মানুষ আন্দোলনে যোগ দেন।
চলতি মাসের শুরুতে প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ভারতে ফেরেন। অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা তরুণদের ক্ষোভকে রাজপথের আন্দোলনে রূপ দিয়ে তিনি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছেন।
ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের কম বয়সী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফলাফল নিয়ে বিতর্ক এবং প্রশাসনিক অনিয়ম তরুণদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা সিজেপির প্রধান দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
কয়েক মাস আগেও ‘ককরোচ পার্টি’ মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও রাজনৈতিক রসিকতার বিষয় ছিল। তবে গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যে তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলে বিতর্ক তৈরি হলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। এরপর অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশ্ন তোলেন, “সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়, তাহলে কী হবে?”
তার এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পরে তিনি একটি আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট চালু করেন এবং আন্দোলনের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলেন। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
গত ৬ জুন দিল্লিতে প্রথমবারের মতো প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করে সিজেপি। পরে আন্দোলনটি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও নাগপুরসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শত শত তরুণ অংশগ্রহণ করছেন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শচীন সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট)-এ অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “এটি আমার মনোবল ভেঙে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা হতাশা ও বিষণ্নতায় ভুগছে, কিন্তু কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাতিল হওয়া পরীক্ষা এবং পুনঃপরীক্ষার মধ্যবর্তী সময়ে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় এক ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
শচীনের ভাষ্য, “এখন আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতার ওপর আমার আস্থা নেই। অযোগ্য ব্যক্তিদের কারণে পুরো ব্যবস্থাই কলুষিত হয়ে গেছে।”
এদিকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা এলাকা থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাময়িকভাবে খাবার ও পানির সরবরাহও সীমিত করা হয়েছে।
তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তার সমর্থকদের ঘোষণা, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। দীপকে বলেন, “সরকার যদি মনে করে আমরা ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে যাব, তাহলে তারা ভুল করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় থাকব।” সূত্র: আল জাজিরা
ভোরের আকাশ/সু.পা