বাব আল-মানদেব কি হুতিদের হাতে ছেড়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইয়েমেনের হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ওয়াশিংটন গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তায় আগের মতো সামরিক প্রতিশ্রুতি দিতে চাইছে না।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলাইমান আল-আকিলি। তার মূল প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে এবং এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ‘নিরাপত্তার বিনিময়ে তেল’ সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
এটি লেখকের বিশ্লেষণ; তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে বাব আল-মানদেব ঘিরে হুতিদের অবস্থান যে শক্তিশালী হয়েছে, তা একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন প্রশ্ন
১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চায় না এবং তারা মার্কিন জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে সমাধান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই বক্তব্যের সময় ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা দ্রুত এগোচ্ছিল। তারা কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলের পর ধুবাব ও মায়ুন বা পেরিম দ্বীপের দিকে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মায়ুন দ্বীপটি বাব আল-মানদেবের প্রবেশমুখে অবস্থিত এবং প্রণালিটিকে কার্যত দুটি নৌপথে ভাগ করে। ফলে এ অঞ্চলে হুতিদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের অগ্রযাত্রা তাদের বাব আল-মানদেবের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নৌযানকে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জন্যও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
হরমুজে ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা
বিশ্লেষণটির অন্যতম যুক্তি হলো—ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আরেকটি সামরিক ফ্রন্ট খুলতে ওয়াশিংটন অনাগ্রহী।
সাম্প্রতিক তথ্যও দেখাচ্ছে, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও মনোযোগের বড় অংশ হরমুজকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে—এমন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফলে একই সময়ে বাব আল-মানদেবেও বড় ধরনের অভিযান চালানো হলে মার্কিন বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
সৌদির জন্য দ্বিমুখী চাপ
বাব আল-মানদেব সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে সৌদি আরবের ওপর। একদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে হুতিদের অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব দিয়ে সৌদি তেল ও পণ্য পরিবহন নতুন ঝুঁকিতে পড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেলে নেমে যায়, যা তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। হুতি-সংশ্লিষ্ট হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথে ক্ষতির পাশাপাশি ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়াদের ড্রোন হামলাও সৌদি তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে বলে আইইএ জানিয়েছে।
একই সময়ে হুতিদের দ্রুত সামরিক অগ্রযাত্রা সৌদি আরবের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। রয়টার্স বলছে, পশ্চিম ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় হুতিদের অগ্রগতি তাদের বাব আল-মানদেব নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তন?
১৯৭০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি ছিল একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা—ওয়াশিংটন উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও জ্বালানি পরিবহনপথ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, আর উপসাগরীয় দেশগুলো বৈশ্বিক বাজারে তেলের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষক আল-আকিলির মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই পুরোনো সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার ব্যাখ্যায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি ‘সমন্বিত ছাতা’ দিতে আগ্রহী নয়; বরং সরাসরি মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ অবসান বলা যাচ্ছে না। মার্কিন বাহিনী এখনও মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সমন্বয়ও অব্যাহত রয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বৈঠক হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরাসরি মার্কিন হামলা অনুমোদন না করলেও ওয়াশিংটন গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য শনাক্তকরণে সৌদিকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অর্থাৎ পরিস্থিতিটি সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে ছেড়ে দিয়েছে’—এমন সরল সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে সীমিত সহায়তা ও সমন্বয়ের পথে ওয়াশিংটন এগোচ্ছে—এমন একটি চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
সৌদির বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর চেষ্টা
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সৌদি আরব নিজস্ব ও বহুপক্ষীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। জুলাইয়ে রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক বৈঠকে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ৪৩টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি অংশ নেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, নৌ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সুরক্ষা জোরদার করা।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে রিয়াদ যে একক কোনও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় কাঠামো গড়তে চাইছে, তা স্পষ্ট। এর পাশাপাশি সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে এবং নিজস্ব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করছে।
সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিও এই বৃহত্তর নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
‘নিরাপত্তার বিনিময়ে তেল’ সমীকরণের ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো, বাব আল-মানদেব ও হরমুজ—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একই সময়ে অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে পুরোনো ‘নিরাপত্তার বিনিময়ে তেল’ কাঠামো আর আগের মতো কার্যকর থাকবে না।
হরমুজ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এবং বাব আল-মানদেব দিয়ে ইউরোপ-এশিয়া বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিবাহিত হয়। দুটি নৌপথে একযোগে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী ‘ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। আইইএ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে।
সৌদির নতুন বার্তা—সমুদ্রপথ রক্ষার দায়িত্ব সবার
রিয়াদের সাম্প্রতিক উদ্যোগের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে—আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ শুধু কোনও একটি দেশের নিরাপত্তা স্বার্থ নয়; এগুলোর নিরাপত্তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বহুজাতিক সামুদ্রিক জোটের উদ্যোগ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা একটি ‘সমষ্টিগত দায়িত্ব’, যার জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
এ অবস্থান থেকে বোঝা যায়, সৌদি আরব শুধু মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে একটি বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো গড়তে চাইছে।
নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে মধ্যপ্রাচ্য?
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি হলেও সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে।
এদিকে চীনও সৌদি আরবের উদ্বেগের বাইরে থাকছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য সৌদি আরব চীনের সহায়তা চেয়েছে। বেইজিং তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাপ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই বহুমুখী হয়ে উঠছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরব বিকল্প অংশীদারিত্ব ও বহুজাতিক জোট গড়ছে; তুরস্ক ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং চীন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাচ্ছে।
বাব আল-মানদেব এখন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাব আল-মানদেব কেবল ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার একটি সামুদ্রিক প্রবেশপথ নয়। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা এই প্রণালির নিরাপত্তাকে সরাসরি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মোখা দখল এবং মায়ুন দ্বীপের দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে হুতিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, হুতিদের এই অগ্রগতি বাব আল-মানদেবের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, বাব আল-মানদেবকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধের আরেকটি অধ্যায় নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশল, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
ট্রাম্পের অবস্থানকে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বাস্তব সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখছেন, কেউ দেখছেন নতুন ধরনের ‘সিলেক্টিভ এনগেজমেন্ট’ নীতি হিসেবে। আর সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বলছে, রিয়াদও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আর এককভাবে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করে রাখতে চাইছে না। ফলে মূল প্রশ্নটি এখন শুধু ‘ট্রাম্প কি বাব আল-মানদেব হুতিদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন?’—এতটুকু নয়। বরং বড় প্রশ্ন হলো, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো কি ধীরে ধীরে একটি বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও শর্তসাপেক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে? বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ অন্তত সেই সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: আল-জাজিরা
ভোরের আকাশ/এনএস