গাজার পথে ফ্লোটিলাকে ঘিরে ফেলল ইসরায়েলি নৌবাহিনী, এক জাহাজে হামলা

গাজার উদ্দেশে অগ্রসরমান আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে ঘিরে ফেলেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। বহরের ভেতরে ইতোমধ্যেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ অক্টোবর) বহরের অন্যতম জাহাজ ‘আলমা’ হামলার শিকার হয়।
ফ্লোটিলা সূত্র জানিয়েছে, গাজার উপকূল থেকে মাত্র ৯০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকতেই হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় জাহাজগুলোর সরাসরি সম্প্রচার। এর আগে ইসরায়েলের একটি যুদ্ধজাহাজ কয়েক মিনিট ধরে ‘আলমা’কে ঘিরে রাখে। এ সময় নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে। যাত্রী থিয়াগো আভিলার ভাষ্য অনুযায়ী, আগ্রাসী আচরণের কারণে আলমার ক্যামেরা, সম্প্রচার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়।
কর্মীরা জানিয়েছেন, সকালবেলায় সংঘাতের পরও তারা গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ ফ্লোটিলার কয়েকটি নৌকার দিকে এগিয়ে গিয়ে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল’ নেয় এবং আলমার ক্যাপ্টেনকে দিক পরিবর্তনে বাধ্য করে। বহরের আরেকটি জাহাজকেও একইভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, সুমুদ ফ্লোটিলা কোনো মানবিক উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি ‘উস্কানিমূলক পদক্ষেপ’। ইসরায়েল আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, এই বহরকে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে দেবে না। এর আগে গত জুন ও জুলাই মাসে একই ধরনের দুটো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় ইসরায়েল।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সুমুদ ফ্লোটিলা। এতে রয়েছেন প্রায় ৫০০ মানবাধিকারকর্মী, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ, এবং ইতালির কয়েকজন রাজনীতিবিদ। মোট ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিরা এই বহরে যোগ দিয়েছেন।
ভোরের আকাশ // হ.র