বৃষ্টি বাড়াতে আমিরাতের ৮০টি ক্লাউড সিডিং মিশন পরিচালনা

দেশের পানির ভাণ্ডার শক্তিশালী করা এবং বৃষ্টিপাত বাড়ানোর লক্ষ্যে চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র প্রায় ৮০টি ক্লাউড সিডিং মিশন পরিচালনা করেছে।
আবহাওয়া কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আল আবরি জানান, এই কার্যক্রম শুধুমাত্র উপযোগী পরিচলন মেঘের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়, কারণ সব ধরনের মেঘ এই প্রক্রিয়ায় কার্যকর নয়।
আল খালিজ পত্রিকার বরাত দিয়ে আল আবরি বলেন, “আমরা কেবল সেই পরিচলন মেঘকে লক্ষ্য করি যা ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে কিছু এলাকায় বিদ্যমান স্তরীভূত মেঘ এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় না।” এ কারণেই বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিচলন মেঘের অবস্থান ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলে কোনো এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে, আবার অন্য এলাকা সম্পূর্ণ অপ্রভাবিত থাকতে পারে। আবহাওয়া কেন্দ্রের মতে, এটি আবহাওয়া ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, কোনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নয়।
এই ক্লাউড সিডিং কর্মসূচি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
আল আবরি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলে অগভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. আহমেদ হাবিব বলেন, উপযুক্ত মেঘের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে ২০২৬ সাল এবং পরবর্তী সময়েও ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই প্রক্রিয়া কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমভিত্তিক নয়, বরং উর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ এবং উল্লম্বভাবে বিকশিত পরিচলন মেঘের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
ভোরের আকাশ/সু.পা