সাগরে আছড়ে পড়ল ৪০ তলা ভবনের সমান স্টারশিপ রকেট

স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ রকেট সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে প্রথমবারের মতো সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উড্ডয়নকালে একটি ইঞ্জিন অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও রকেটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রথম ব্যাচের নতুন স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
সুপার হেভি বুস্টার রকেট ও উপরের মূল স্টারশিপ মহাকাশযানের সমন্বয়ে গঠিত ৪০ তলা ভবনের সমান মনুষ্যবিহীন যানটি টেক্সাসের স্টারবেজ কমপ্লেক্স থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। মিশনটি ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিনের জটিলতার কারণে তা কমিয়ে ৩ ঘণ্টায় আনা হয়। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে নেমে আসে।
এর আগের দুটি মিশনে ল্যান্ডিং সফল না হলেও এবার সুপার হেভি বুস্টারটি স্টারশিপকে মহাশূন্যে পৌঁছে দেয়ার পর নিয়ন্ত্রিতভাবে মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণ করে। তবে নামার সময় বুস্টারের কয়েকটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে স্পেসএক্স জানিয়েছে।
মহাশূন্যে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের প্রধান তিনটি ইঞ্জিনের একটি সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই স্পেসএক্সের মুখপাত্র ড্যান হুওট জানান, মহাকাশযানটি আর কক্ষপথে পৌঁছাতে পারবে না। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকৌশলীদের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে হুওট তার বক্তব্য পরিবর্তন করেন।
প্রকৌশলীরা নিশ্চিত করেন, রকেটের ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে এখনও কক্ষপথে পৌঁছানো সম্ভব এবং এর পরপরই স্টারশিপ সফলভাবে কক্ষপথে প্রবেশ করে। কক্ষপথে পৌঁছানোর পর প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একে একে ২৬টি নেক্সট জেনারেশন স্টারলিঙ্ক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে স্টারশিপ।
স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, সবকটি ২৬টি স্টারলিঙ্ক ভি৩ স্যাটেলাইট সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং এগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
সোমবার মিশনটি সংক্ষিপ্ত করার আগে স্টারশিপের পৃথিবীর চারপাশে ছয়বার প্রদক্ষিণ করার কথা ছিল। তবে ইঞ্জিনের গোলযোগের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় নিরাপদে প্রবেশের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর জন্য মহাকাশে থাকা অবস্থায় একটি রেপ্টর ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে যানটির কোণ সঠিকভাবে প্রস্তুত করার প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, যানটিতে মোট তিনটি মূল রেপ্টর ইঞ্জিন ছিল।
ভোরের আকাশ/এম