শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বোমার আঘাত যে মসজিদ ধ্বংস করেছিল, সেখানেই আবার উচ্চারিত হলো আজানের ধ্বনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুকের ঐতিহাসিক আল-কুদস মসজিদ। আসাদ সরকার ও তার রুশ মিত্রদের ভারী বোমাবর্ষণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মসজিদটি তুরস্কের দুটি মানবিক সংস্থার উদ্যোগে সংস্কারের পর পুনরায় মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে এই পুনরায় চালু হওয়া শুধু একটি মসজিদের উদ্বোধন নয়, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের ঘুরে দাঁড়ানো, আশা ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুদ্ধ চলাকালে ভয়াবহ বোমাবর্ষণে ইয়ারমুক শরণার্থী শিবিরের বড় অংশের মতো আল-কুদস মসজিদও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। একসময় এই মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থানই ছিল না; শরণার্থী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, ধর্মীয় ও পরামর্শমূলক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল।

মসজিদটির সংস্কারকাজে প্রায় এক বছর সময় লাগে। তুরস্কভিত্তিক মাভি মারমারা ফ্রিডম অ্যান্ড সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনেগোল হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। সংস্কারের সময় ভবনের ভেতর ও বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম, অজুখানা ও শৌচাগার আধুনিকায়ন করা হয়।

সংস্কার শেষে প্রায় এক হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের উপযোগী করে মসজিদটি স্থানীয় ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুরস্ক ও সিরিয়ার বিভিন্ন সরকারি প্রতিনিধি, মানবিক সংস্থার কর্মকর্তাসহ তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির সংসদ সদস্য হাসান তুরান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে হাসান তুরান বলেন, “আজ আমরা শুধু একটি মসজিদ উদ্বোধন করছি না; আমরা আমাদের ভ্রাতৃত্বকে পুনর্গঠন করছি এবং নতুন করে আশা জাগিয়ে তুলছি।”

মাভি মারমারার সভাপতি বেহেস্তি ইসমাইল সোঙ্গুর বলেন, প্রায় এক বছর ধরে তুর্কি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা নিরলস পরিশ্রম করে মসজিদটিকে তার ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে পুনর্নির্মাণ করেছেন। ভবিষ্যতে এটি আবারও এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মুসল্লি মুহাম্মদ জুমা আতিয়্যাহ আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই ইবাদতখানা পুনর্নির্মাণে যাদের অবদান রয়েছে, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমরা মুক্ত ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করব।”

উল্লেখ্য, ইয়ারমুক শরণার্থী শিবির একসময় ফিলিস্তিনিদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের বহু শীর্ষ নেতা জীবনের বিভিন্ন সময়ে এই শিবিরে অবস্থান করেছেন। তবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপক বোমাবর্ষণে শিবিরটির অবকাঠামোর পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভোরের আকাশ/এনএ

 

বোমা

শেয়ার করুন: