ইরানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট

ইরানে বর্তমানে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা দেশটির স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর আশঙ্কা তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক নৌ-অবরোধের কারণে দেশটির ওষুধ সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারসহ গুরুতর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কমে যাওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইরানিয়ান ফার্মাসিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র হাদি আহমাদির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৮০০ ধরনের ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি ওষুধকে অত্যাবশ্যক ও জীবনরক্ষাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঘাটতিতে থাকা ওষুধগুলোর প্রায় ৪০০টি দেশেই উৎপাদিত হয় বলে জানান তিনি।
তেহরানের ৫৯ বছর বয়সী বাসিন্দা ফারাহ আগে সুইজারল্যান্ডে তৈরি একটি ওষুধ ব্যবহার করতেন। দাম ও সহজলভ্যতার কারণে এখন তিনি একই ধরনের ইরানি ওষুধ ব্যবহার করছেন। তবে দেশীয় ওষুধটির সরবরাহও শিগগির সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
আলজাজিরাকে ফারাহ জানান, বিদেশি ওষুধের তুলনায় দাম ও প্রাপ্যতার কারণে তিনি দেশীয় ওষুধে পরিবর্তন করেছেন। তবে তার আশঙ্কা, বিদেশি ওষুধ পাওয়া না গেলে বারবার ওষুধ পরিবর্তন করাও সম্ভব নয়।
এদিকে ওষুধের ঘাটতির পাশাপাশি দেশটিতে বিভিন্ন ওষুধের দামও ব্যাপক বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, গত এক বছরে মৃগী ও স্নায়ুর ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গ্যাবাপেন্টিনের দাম ২২০ শতাংশ বেড়েছে।
প্যারাসিটামল বা অ্যাসিটামিনোফেনের দাম বেড়েছে ৩৭৫ শতাংশ, অ্যামোক্সিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিকের ২৮৫ শতাংশ এবং ফ্লুওক্সেটিনের ১০০ শতাংশ। ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের দাম এক বছরে ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি ইরানের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম এক বছরে ১২৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। রান্নার তেলের মতো কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তিন গুণেরও বেশি হয়েছে।
ইরানের ওষুধ খাতে চলমান সংকটের পেছনে নিষেধাজ্ঞা, সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ ও দেশটির অর্থনৈতিক সংকট বড় ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।