সুপার টাইফুন ‘বাভি’কে ঘিরে গুয়াম-নর্দার্ন মারিয়ানায় জরুরি সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে সুপার টাইফুন ‘বাভি’র সম্ভাব্য আঘাতকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়টি দ্রুত উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। রোববার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার ভোরে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫৭ কিলোমিটার (১৬০ মাইল) বেগে বাতাস বইতে পারে। সংস্থাটির সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিপজ্জনক ঝড়। এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ভারী বৃষ্টিজনিত বন্যা এবং প্রায় ১১ মিটার (৩৫ ফুট) উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের মধ্যে টাইফুনটি সরাসরি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করতে পারে। তবে ঝড়ের মূল কেন্দ্র পৌঁছানোর অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আগে এবং পরেও প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকা প্রবল বাতাস ও বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, সেসব এলাকার মানুষের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝড় চলাকালে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাসকারী পর্যটননির্ভর দ্বীপ গুয়ামে ইতোমধ্যে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ জন আশ্রয় নিতে পারবেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষের জন্য নির্ধারিত। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রোববার দুপুরের মধ্যেই একটি আশ্রয়কেন্দ্র পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত মানুষকে অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার ‘বাভি’কে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার সময় ঝড়টির স্থায়ী বাতাসের গতি ১৫০ নট (প্রায় ১৭৩ মাইল/ঘণ্টা) এবং দমকা হাওয়ার গতি ১৮০ নট (প্রায় ২০৭ মাইল/ঘণ্টা) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়প্রবণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরও শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সুপার টাইফুনের ধ্বংসাত্মক শক্তি ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য হতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা