ইসরায়েলি হামলায় নবজাতক নিহতের ঘটনায় প্রতিশোধের অঙ্গীকার

ইরানে এক নবজাতকসহ পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির আরাক শহরের কাছে একটি গ্রামীণ বাড়িতে ভোরে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় তিন দিনের এক শিশু, তার মা, দুই বছরের বোন এবং দাদি নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আইআরজিসি এ ঘটনাকে ‘নৃশংস হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, এতে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে এবং বেসামরিকদের জীবনের উপর যে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে, তা মানবিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।
আইআরজিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে। বাহিনী জানিয়েছে, “যাদের দ্বারা এই নৃশংসতা ঘটেছে, তারা শীঘ্রই আইআরজিসির জবাবের মুখোমুখি হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রতিশোধ নয়, বরং নিরাপত্তাহীনতার দায়ীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘নির্মমতা’ আবারও প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ব নেতাদের নীরবতারও সমালোচনা করা হয়েছে। আইআরজিসি উল্লেখ করেছে, এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং সমগ্র জাতিকে শোকাহত করেছে।
আইআরজিসি আরও জানান, এ ধরনের হামলা ইরানের জনগণের মানসিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। তবে তারা আরও দৃঢ়ভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাহিনী বলেছে, এমন নৃশংস ঘটনার পরও তারা দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এর আগে যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা বেসামরিক শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত হানে। আইআরজিসি এই ঘটনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তারা প্রতিটি নৃশংস ঘটনার জবাব দেবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের শাস্তি নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নবজাতক শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তারা বলছেন, আইআরজিসির প্রতিশোধের অঙ্গীকার এই সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সমাধানের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে।
আইআরজিসির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। তবে সংঘাতের মাঠে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হওয়ার কারণে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া কি পর্যাপ্ত হবে, তা স্পষ্ট নয়।
ভোরের আকাশ/আ.র