ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে চাপে মোদি, বাড়তি সুবিধায় বাংলাদেশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য একসময়কার পরম বন্ধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন যেন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি ভারতের অর্থনীতিকে টালমাটাল করে তুলেছে। অন্যদিকে এ পরিস্থিতি বাংলাদেশকে দিয়েছে বাড়তি সুযোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক ভারতের অর্থনীতিতে কোভিড মহামারির চেয়েও ভয়াবহ অভিঘাত ফেলতে পারে। কারণ, ২০২৪ সালে ভারত–আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ছিল ১২ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার। উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে সেই বিশাল অংশই হুমকির মুখে পড়েছে।
এনডিটিভি প্রফিটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ালমার্ট, অ্যামাজন, টার্গেট ও গ্যাপের মতো মার্কিন খুচরা জায়ান্টরা ইতোমধ্যে ভারত থেকে তাদের অর্ডার স্থগিত করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুটি প্রধান কারণে ট্রাম্প মিত্র দেশ ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন—
১. ভারত বাইরের পণ্যের ওপর, বিশেষ করে কৃষিপণ্যে, গড়ে ৩৯ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়ে বাজার সুরক্ষিত রেখেছে।
২. যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারত রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কিনছে এবং সেই তেল প্রক্রিয়াজাত করে অন্য দেশে বিক্রি করছে।
ভারতে কৃষকদের দুর্দশা দীর্ঘদিনের। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে আত্মহত্যা করেছেন ১১ হাজার ২৯০ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিক—অর্থাৎ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ভারত বাজার উন্মুক্ত করে দেয়, তবে সস্তা দামের মার্কিন কৃষিপণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না দেশীয় কৃষকরা। এতে রাজনৈতিকভাবে ভয়াবহ চাপে পড়বে মোদি সরকার।
যেখানে ভারত ও চীন শুল্ক ঝড়ের কবলে পড়েছে, সেখানে বাংলাদেশ বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে। এতে তৈরি পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে মার্কিন–ভারত দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বাজারে বিরাট সুযোগ তৈরি করেছে।
ভোরের আকাশ//হ.র