ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে ইরানের সেনাপ্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর প্রেক্ষাপটে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, বাইরের কোনো শক্তির হুমকি তেহরান নীরবে সহ্য করবে না। বুধবার(৭ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এ তথ্য জানায়।
জেনারেল আমির হাতামি বলেন, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্যকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং এর জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময়কার চেয়েও কঠোর হবে।
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হওয়ায় গত কয়েক দিনে একাধিকবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরানের চলমান বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
গত (২৮ ডিসেম্বর) তেহরানে ব্যবসায়ীরা আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই দেশের আরও কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন।
তবে এই সরকারবিরোধী আন্দোলন এখনো ২০২২-২০২৩ সালের আন্দোলনের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। এমনকি বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের বড় পরিসরের বিক্ষোভের পর্যায়েও পৌঁছায়নি।
এরপরও অর্থনৈতিক সংকট থেকে উদ্ভূত এই বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর নেতারা এই পরিস্থিতিতে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে যেমন মানুষ হত্যা করা হয়েছে, যদি তা আবার শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব কঠোর আঘাত আসবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানি জনগণের স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতি তারা সংহতি প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে বলেছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন এবং ইরানের জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। ওই সময় স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও হামলায় অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
ভোরের আকাশ/তা.কা