রেশনিং করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাচ্ছে ইসরায়েল

এক মাসে গড়ানো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। বিশেষ করে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর পর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে তেল আবিব। ফলে হামলা ঠেকাতে রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে ইসরায়েলের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েল নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারে রেশনিং পদ্ধতি আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দিক থেকে আসা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তেল আবিবকে তাদের সবচেয়ে উন্নত ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ সিস্টেম ব্যবহার করতে হচ্ছে। একেকটি ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে কয়েক লাখ ডলার খরচ হয়।
টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে ইসরায়েলকে। ফলে ক্রমাগত ইরান ও তাদের মিত্রদের হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে তেল আবিবের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুতও বিপজ্জনক হারে কমছে।
শুধু তাই নয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ায় বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে ইসরায়েল। সেজন্য বেছে বেছে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে হচ্ছে তেল আবিবকে। মূলত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় দেখা গেছে, ইরানি ড্রোন ও মিসাইল মাঝে মাঝেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এর প্রধান কারণ তেল আবিবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অত্যধিক চাপ এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের স্বল্পতা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ায় এই যুদ্ধে দুই পক্ষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলেও ইরান ও তাদের ছায়া বাহিনী লেবাননের হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি যুদ্ধের মধ্যে অন্তত ১৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড স্বীকার করেছে।
গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।
ভোরের আকাশ/আ.র