ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৩ মে) নিউইয়র্ক পোস্ট–এর বরাতে আল আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩২ বছর বয়সী ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল সাদি ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি তার কাছে ফ্লোরিডায় অবস্থিত ইভাঙ্কার বাড়ির একটি নকশাও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই তিনি ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। সোলাইমানি ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান ছিলেন এবং বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন।
ওয়াশিংটনে ইরাকি দূতাবাসের সাবেক উপ-সামরিক অ্যাটাশে এন্তিফাধ কানবার দাবি করেন, সোলাইমানির মৃত্যুর পর আল সাদি ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি আরবি ভাষায় একটি হুমকিমূলক বার্তার সঙ্গে ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকার মানচিত্রও প্রকাশ করেছিলেন। ওই এলাকাতেই ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারর বাড়ি রয়েছে।
গত ১৫ মে তুরস্কে আল সাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে তাকে কাতায়েব হিজবুল্লাহ এবং আইআরজিসির কথিত অপারেটিভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আমস্টারডাম, লন্ডন, টরন্টো, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে মার্কিন ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের দাবি, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ গোপন রাখতে আল সাদি একটি ট্রাভেল এজেন্সিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতেন।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত আল সাদির আইনজীবীও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।