ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে ভারতের সমালোচনা, যা বললেন মাহমুদ মাদানী

ইসরায়েলে ভারত থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী। তিনি এ ধরনের অভিযোগকে ‘মানবতা ও ভারতের মূল্যবোধের ওপর কলঙ্ক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে মাহমুদ মাদানী বলেন, যদি এসব অস্ত্র গাজায় নারী, শিশু ও অন্যান্য বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশ থেকে রপ্তানিকৃত ডুয়াল-ইউজ (সামরিক ও বেসামরিক—উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য) পণ্য কঠোর আইনগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় অনুমোদিত হয়। সরকারের দাবি, ভারতের সব ধরনের রপ্তানি জাতীয় আইন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।
মাহমুদ মাদানী বলেন, ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাই একদিকে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলা এবং অন্যদিকে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা ভারতের ঐতিহ্যগত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
ভোরের আকাশ/এনএ