হরমুজে ফি আরোপকে ‘অনিবার্য’ মনে করছে ইউরোপের দেশগুলো

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান ও ওমানের সম্ভাব্য ফি আরোপকে ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এখন কার্যত অনিবার্য হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলছে, কোনো ফি আরোপ করা হলে তা যেন সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে কোনো না কোনো ধরনের সেবা-ভিত্তিক ফি চালু হওয়ার সম্ভাবনাকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনা করছে।
তবে সম্ভাব্য ফি কী ধরনের হবে, কত অর্থ নেওয়া হবে কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় তা আদায় করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ তেহরান ও মাসকাটকে জানিয়েছে, যদি নতুন কোনো ফি ব্যবস্থা চালু করা হয়, তাহলে তা অবশ্যই বৈষম্যহীন হতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাহাজকে আলাদা করে বেশি বা কম সুবিধা দেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জোট গঠনের পক্ষেও কাজ করছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানকে ঘিরে চলমান শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ এখনও মনে করে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী ইরান ও ওমানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক ফি আরোপের আইনি অধিকার নেই। তাদের আশঙ্কা, এমন নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো নতুন নীতিমালা বা বিধিনিষেধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোরের আকাশ/এনএস