শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধবিধ্বস্ত দারফুরে প্রাণঘাতী হামের প্রাদুর্ভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে সুদানের দারফুর অঞ্চলে ভয়াবহ হাম রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে বহু শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বলে জানা গেছে। ৩৭ বছর বয়সী হাওয়া আদম তার দুই বছর বয়সী ছেলে আলিকে হারিয়েছেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব দারফুরের লাবাদো এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ার দুই দিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম এটি সাধারণ কোনো শিশু রোগ। কখনো ভাবিনি এই মহামারিতে আমার সন্তানকে হারাতে হবে।”

হাওয়া আদমের মতে, মৌলিক চিকিৎসাসেবা—বিশেষ করে টিকা ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের অভাব—তার সন্তানের মৃত্যুর প্রধান কারণ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অধিকাংশ চিকিৎসক এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মার্চ থেকে লাবাদোর বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,০০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই সংখ্যা কমিয়ে ২৬ জন মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

ইউনিসেফের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর ১১ এপ্রিল টিকা সরবরাহ আসে এবং ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ বা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক হতে পারে। 

বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি দারফুরের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার চিত্র স্পষ্ট করছে। যুদ্ধের কারণে অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং চিকিৎসাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল ইসা জানান, তার দুই বছর বয়সী কন্যাসহ পরিবারের আরও দুই শিশু এই রোগে মারা গেছে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু ঘরোয়া চিকিৎসা করার চেষ্টা করেছি, কারণ ওষুধ কিনতে পারিনি বা পাইনি।”

চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ফেব্রুয়ারির পর থেকেই ওষুধ শেষ হয়ে যায়। বেসরকারি ফার্মেসিতে ওষুধ থাকলেও অধিকাংশ মানুষের তা কেনার সামর্থ্য নেই। সূত্র: আল জাজিরা

স্থানীয়রা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, দারফুরে নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা এই সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। একজন মা হাওয়া আদমের কথায় এই বাস্তবতার গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে: “ওরা এখনও বেঁচে থাকতে পারত। দারফুরে যাদের টাকা নেই, তারা মারা যায়।”

ভোরের আকাশ/সু.পা

প্রাণঘাতী হাম

শেয়ার করুন: