ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আগুন

ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় মস্কোর উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি বড় তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে এবং স্থাপনাটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংঘটিত এই হামলার একদিন আগে ইউক্রেন অভিযোগ করে, রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ৬০০টির বেশি ড্রোন এবং ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কিয়েভে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি অর্থোডক্স গির্জার অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ম্যাক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মস্কোর ওপর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন রাজধানীর একটি তেল শোধনাগার স্থাপনায় আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার মস্কোর দিকে ছোড়া ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এটিকে চলতি বছরে মস্কোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কাপোতন্যা এলাকায় অবস্থিত তেল শোধনাগারকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের মালিকানাধীন শোধনাগারটি ওই এলাকাতেই অবস্থিত।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার দায় স্বীকার করে বলেছেন, কিয়েভের দূরপাল্লার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “মস্কো অঞ্চল এবার ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতার নাগাল অনুভব করেছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে থাকা একটি তেল শোধনাগারে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে শিল্পাঞ্চলের দিকে যায়। পরে একটি লাল-সাদা চিমনির কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে এটি একটি ন্যায্য জবাব। একই সঙ্গে এমন একটি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করারও প্রতিক্রিয়া, যার অবসান হওয়া প্রয়োজন।”
২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। এর পাল্টা জবাবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইউক্রেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা