সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি

সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা আবারও বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জাহাজ অপহরণের ঘটনা ঘটায় ঝুঁকির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রোববার একটি কার্গো জাহাজ সশস্ত্র ব্যক্তিদের দখলে চলে যায় এবং সেটিকে সোমালিয়ার আঞ্চলিক পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এটি এক সপ্তাহে অন্তত চতুর্থ এমন ঘটনা। এর আগে একটি মাছ ধরার নৌকা, একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা বা দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, একটি তেলবাহী জাহাজ ১৭ জন ক্রুসহ জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক বছর আগে এই অঞ্চলে জলদস্যুতা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি তা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং খাতকে উদ্বেগে ফেলেছে। দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অনুকূল আবহাওয়া ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলার সুযোগ বাড়াচ্ছে।
ইউকেএমটিও জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। কিছু ঘটনায় ক্রুরা প্রতিরোধ গড়ে তোলায় হামলাকারীরা পিছু হটেছে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুরা মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। নতুন করে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বৈশ্বিক বাণিজ্য রুট আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের খরচ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়বে।
ভোরের আকাশ/সু.পা