উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পকে মধ্যস্থতার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প যেভাবে ভূমিকা রেখেছেন, একইভাবে তিনি যেন কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা প্রশমনে নেতৃত্ব দেন।
এমন এক সময় এই আহ্বান এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়া ইস্যুর দিকে মনোযোগ দিতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এই জল্পনাকে আরও উসকে দেন নিজেই ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করেন।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত সাত দেশের জোটের (জি-৭) সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের মধ্যে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানায় সিউলের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়।
বৈঠকে লি জে-মিয়ং ট্রাম্পকে আহ্বান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের মতোই উত্তর কোরিয়া সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানেও যেন তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। জবাবে ট্রাম্প এ বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানা গেছে। লি জে-মিয়ংয়ের এই অবস্থান তার পূর্বসূরি ইউন সুক-ইওলের কঠোর নীতির তুলনায় ভিন্ন। তিনি তুলনামূলকভাবে সংলাপ-নির্ভর ও নমনীয় কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছেন।
তবে পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি উদ্যোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছে। উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে “সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং নিজেদের “অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র” হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে নতুন কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা এখনই খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। সিউলের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ইয়াং মু-জিন বলেন, উত্তর কোরিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার তেমন কোনো কৌশলগত প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, কিম জং উন বর্তমানে প্রতিবেশী শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা দিয়েছে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কও সম্প্রতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অবস্থান ও বিবৃতিতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অনুপস্থিত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিং এখন কার্যত উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থানকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিচ্ছে। সূত্র: এএফপি
ভোরের আকাশ/সু.পা