হুথির ভয়ে দিক পাল্টাল সৌদি আরবের ৬ জাহাজ

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পণ্য খালাস শেষে গন্তব্যে ফিরছিল সৌদি আরবের বিশাল আকৃতির ছয়টি তেলবাহী জাহাজ। কিন্তু পথেই হুথি আতঙ্ক। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে নিতে হলো দীর্ঘ এক পথ। যেখানে গন্তব্যে পৌঁছাতে লাগতো আর তিন থেকে চারদিন, এখন লাগবে আরও অন্তত ২৫ দিন।
সোমবার (৩ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হুমকির পর লোহিত সাগরের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে আফ্রিকা ঘুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এলএসইজি এবং মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্য থেকে পণ্য খালাস করে ফিরে আসা খালি ট্যাংকারগুলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে দক্ষিণ লোহিত সাগর অতিক্রম করার কথা ছিল। পরে, জাহাজগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে এ পথটি না গিয়ে বিকল্প পথে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে যাত্রা করে।
জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, জাহাজগুলোর মধ্যে ‘দিলাম’ নামের একটি তেলের ট্যাংকারের গন্তব্য ছিল জিব্রাল্টার।
তবে, এ বিষয়ে সৌদি আরবভিত্তিক জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাহরি’ এবং সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তত ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম এই সুপারট্যাংকারগুলো নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ ঘুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ট্যাংকারগুলো যদি সুয়েজ খাল হয়ে লোহিত সাগরে অবস্থিত সৌদির বন্দরগুলোতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাদের যাত্রাপথে আরও অন্তত ২৫ দিন বেশি সময় লাগবে।
ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রে অবরোধ ঘোষণা করেছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন আরেকটি সংঘাতের সূচনা করেছে।
সম্প্রতি সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে হুথিদের হামলায় ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের পরিধি আরও বেড়ে যায়। লন্ডনের সামুদ্রিক বিমা বাজারের বিবেচনায় সৌদি আরবের কয়েকটি বন্দরের নিকটবর্তী জলসীমা এই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের আওতায় চলে এসেছে।
সূত্র: রয়টার্স
ভোরের আকাশ/এনএস