আফগানিস্তান: তালেবানের ক্ষমতা দখলের চার বছর
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার শুক্রবার (১৫ আগস্ট) তাদের ক্ষমতা দখলের চতুর্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছে। এবারের আয়োজনকে ঘিরে তাদের মনোবল আরও বেড়েছে। কারণ সম্প্রতি রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তালেবান আশা করছে, অন্যান্য দেশও এই পথে হাঁটবে।
দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে প্যারেডের আয়োজন করা হয়। কাবুলে হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছিটানো হয় এবং সর্বত্র উড়তে থাকে তালেবানের ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান এর সাদা-কালো পতাকা, যা ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানী দখলের স্মারক।
চার বছর আগে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় দখল করেছিল তালেবানরা। দেশটি এখনও গভীর মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, কিন্তু তালেবান জঙ্গিরা নানা উপায়ে এ পরিস্থিতিকে তাদের সুবিধার জন্য কাজে লাগাচ্ছে।
রুশ স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর কাবুলে সরকারের পতন হয় এবং তালেবানরা ক্ষমতা দখল করে। চার বছর পর তালেবানদের ক্ষমতা আরও দৃঢ় হয়েছে। এমনকি জার্মানিসহ কিছু সরকার কাবুলের সরকারে সাথে কার্যত সম্পর্ক স্থাপন করছে। রাশিয়া গত জুলাই মাসে প্রথম দেশ হিসেবে তালেবানদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
প্যারিসের ইনালকো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গবেষক সরদার রহিমী বলেন, এভাবে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে রাশিয়া যা মার্কিনীরা চার বছর আগে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছিল। চীনও তালেবান শাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী তালেবান রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।
সাবেক আফগান কূটনীতিক শুকরিয়া বরকজাই বলেন, নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তালেবানরা নারীদের ব্যবহার করছে। তারা তাদের শাসনকে বৈধতা দেয়ার জন্য নতুন সীমাবদ্ধতার মাধ্যমে নারীদের উপর চাপ বাড়ায়।
মানবিক সংকট ইইউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে দারিদ্র্যের কারণে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। এটি দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি চারজনের মধ্যে একজন আফগান খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেওয়ায়মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে, যার ফলে ৩০ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না এবং ৪২০টি ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেছে।
ভোরের আকাশ/তা.কা