শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শতাধিক বিজ্ঞানীর পদত্যাগ, চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোতে (ISRO) পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে সংস্থাটি থেকে শতাধিক বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এতে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীও রয়েছেন।

কেন এই সংকট?
গত দুই দশকে এমন কর্মীসংকটে কখনো পড়েনি ইসরো। ভারতের মহাকাশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটিতে ২০ হাজারের বেশি পদের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ হাজারেরও কম কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট পদের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। অতীতেও কিছু পদ শূন্য ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নজিরবিহীন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের (ভিএসএসসি) লঞ্চ ভেহিকল মার্ক-৩ (এলভিএম-৩) প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ভিক্টর জোসেফ টি। গগনযান মিশনে ব্যবহৃত এই রকেট প্রকল্পে ১৩ মাস দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরোতে গণপদত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ। ২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করার পর স্টার্টআপের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে মহাকাশ খাতে মাত্র একটি স্টার্টআপ ছিল, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উপগ্রহ প্রযুক্তি, প্রপালশন সিস্টেম, ইমেজিংসহ বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে কাজ করছে।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেস ও ধ্রুব স্পেসের মতো প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই এসেছে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান দক্ষ বিজ্ঞানীদের আকর্ষণীয় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দিতে সক্ষম হচ্ছে।

বর্তমানে ইসরোতে একজন নবীন বিজ্ঞানীর বার্ষিক বেতন প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। ২০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীর সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। আর ইসরোর চেয়ারম্যানের বার্ষিক বেতন প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানগুলো অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের কয়েক গুণ বেশি বেতন দিচ্ছে।

ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান সি. মাধবন নায়ারের মতে, সরকারি নীতির ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি বেতন ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় মেধাবীরা সেদিকেই ঝুঁকছেন।

অভ্যন্তরীণ সমস্যাও দায়ী
শুধু বেতন নয়, ইসরোর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যাও পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনিক জটিলতা, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিশ্চয়তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং কাজের যথাযথ স্বীকৃতির অভাবে অনেক বিজ্ঞানীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

গগনযান, এসএসএলভি ও জিএসএলভির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সময়সীমা বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় কর্মীদের মনোবলেও প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরোর কয়েকটি বড় মিশনও ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য রকেট হিসেবে পরিচিত পিএসএলভি এক বছরের মধ্যে টানা দুটি উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ায় বিজ্ঞানীদের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে।

ইসরোর সাবেক বিজ্ঞানী ও শিশির রাডারের প্রতিষ্ঠাতা তপন মিশ্র বলেন, বর্তমানে স্টার্টআপগুলোর দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন, আর সেই কর্মীর বড় উৎস ইসরো। নতুন প্রজন্ম সরকারি চাকরির নিরাপত্তার চেয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে বেশি আগ্রহী। তার মতে, ১৮ হাজার কর্মীর মধ্যে ১০০ জনের পদত্যাগ আপাতদৃষ্টিতে বড় সংখ্যা না হলেও এটি ভবিষ্যতের বড় সংকটের ইঙ্গিত।

পদত্যাগ ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগ
বিজ্ঞানীদের পদত্যাগের প্রবণতা বাড়তে থাকায় উদ্বেগে পড়েছে ভারত সরকার। কারণ সামনে রয়েছে গগনযান, চন্দ্রযান-৪, ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন এবং মঙ্গলযান-২-এর মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প।

এ পরিস্থিতিতে গত ১৪ জুলাই মহাকাশ বিভাগ একটি নির্দেশিকা জারি করে। বেঙ্গালুরুর ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার এবং তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারসহ ইসরোর প্রধান কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো ওই নির্দেশনায় বলা হয়, গগনযানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের স্বেচ্ছাবসর কিংবা পদত্যাগের আবেদন আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করা হবে না।

তবে সাবেক চেয়ারম্যান সি. মাধবন নায়ারের মতে, শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। দক্ষ কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে হবে। একই মত তপন মিশ্রেরও। তিনি বলেন, ইসরোর জন্য কাজ করার যে গর্ব ও আত্মমর্যাদাবোধ ছিল, সেটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এই মানসিক পরিবর্তন রোধ করতে না পারলে কেবল নির্দেশিকা জারি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

স্টার্টআপের সাফল্যে নতুন বার্তা
ইসরোতে পদত্যাগের আলোচনার মধ্যেই ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাত বড় সাফল্য অর্জন করেছে। শনিবার শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি বিক্রম-১ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এটি বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত ভারতের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণের নজির।

ভারতের আগে মাত্র দুটি দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সাফল্য অর্জন করেছিল। স্কাইরুটের প্রতিষ্ঠাতা পবনকুমার চন্দনা ও নাগাভারত ডাকা—দুজনই ইসরোর সাবেক বিজ্ঞানী।

আরও পড়ুন

ইরান ২০ দিনে চিনে ৬০০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি করেছে

এদিকে ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান এস. সোমনাথও সম্প্রতি অগ্নিকুল কসমসের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়েছেন। চন্দ্রযান-৩সহ ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এই বিজ্ঞানীর যোগদানকে বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও মহাকাশ বিশেষজ্ঞ দেবীপ্রসাদ দুয়ারীর মতে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে মহাকাশ গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কতটা ইতিবাচক হবে, তা সময়ই বলে দেবে। ডিডাব্লিউ।

ভোরের আকাশ/সু.পা

বিজ্ঞানী, পদত্যাগ, মহাকাশ

শেয়ার করুন: