তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ‘তুরস্ক ভাঙার’ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাকের বিরুদ্ধে দেশটিকে টুকরো টুকরো করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন তুর্কি রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যম। এমনকি ক্ষমতাসীন দল থেকে শুরু করে বিরোধীপক্ষ—সব পক্ষই এই মার্কিন কূটনীতিকের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
গত মে মাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে আঙ্কারায় পৌঁছান টম বারাক। তখন তার আগমনকে তুর্কি মহলে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কারণ, তিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তার পূর্বপুরুষদের শেকড় এই তুরস্কেই। আঙ্কারায় প্রথম ভাষণে বারাক বলেছিলেন, “আমি মনে করি এটি আমার জীবনের একটি বিশেষ দিন। এই ভূমির প্রতিধ্বনি আমি অনুভব করছি, এখান থেকেই আমার পূর্বপুরুষরা এসেছেন।”
তবে দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। তুরস্কের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগত রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে টম বারাকই সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং তিনি শুধু তুরস্কেই সীমাবদ্ধ নন—তার কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে সিরিয়া ও লেবানন পর্যন্ত।
বিশেষত সিরিয়ায় একটি সামরিক গোষ্ঠীকে সংগঠিত করে ‘আন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ আহমেদ আল শারার অধীনে একত্রিত করার প্রচেষ্টা তুর্কি মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
তুর্কি সরকার আশা করছিল, বারাক হয়তো তুরস্কের বহু প্রতীক্ষিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরবেন। কিন্তু জনমনে তার কার্যকলাপ নিয়ে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভাবমূর্তি।
দেশটির সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রদূত বারাক ‘তুরস্ক ভাঙার’ একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় যুক্ত। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই অভিযোগ শুধু সরকারি মহলেই সীমাবদ্ধ নয়; বারাকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তুরস্কের বিরোধীরাও।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভিযোগ কেবল কূটনৈতিক অস্থিরতাই নয়, বরং তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোরের আকাশ//হ.র