সৌদির আপত্তিতে ১.৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি স্থগিত পাকিস্তানের

সৌদি আরবের আপত্তি এবং অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র চুক্তি স্থগিত করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সুদানের সেনাবাহিনীর কাছে যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র সরবরাহের এই চুক্তিটি কার্যত সৌদির অবস্থানের কারণেই আটকে গেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় তিন বছর ধরে চলমান সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর সংঘাত এখন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংঘাত শুধু সুদান নয়, পুরো লোহিত সাগর অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং দেশটির রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান ও সুদানের মধ্যে এই অস্ত্র চুক্তিটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার পর্যায়ে ছিল এবং সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় তা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে পরে সৌদি আরব অর্থায়নের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ায় এবং এর পরপরই চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে চুক্তি স্থগিত করার ইঙ্গিত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের জন্য এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। বিশেষ করে গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার পর দেশটির যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা ও কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে সুদানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা চলছিল, যার অংশ ছিল এই চুক্তি।
অন্যদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান মিত্র এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঋণ সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে রিয়াদ ইসলামাবাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভরসা হিসেবে কাজ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আরও গভীর হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, আফ্রিকার সংঘাতগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সুদানের ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও দুই দেশই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সৌদি আরব সম্প্রতি আফ্রিকার বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পুনর্বিবেচনা করছে। এরই অংশ হিসেবে সুদান ও লিবিয়ার মতো দেশের সঙ্গে চলমান বা সম্ভাব্য বড় ধরনের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এর ফলে শুধু পাকিস্তানের এই চুক্তিই নয়, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্পও প্রভাবিত হতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা