হিজাব পরায় পুলিশের ধরপাকড়
আফগান নারীদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ২

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে হিজাব পরিধান নিয়ে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে নারীদের বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি, লাঠিচার্জ ও চাবুক ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন পুরুষও অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ তাজা গুলি ছুড়েছে। যদিও হেরাত পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগের কথা স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক বিক্ষোভকারী জানান, বিক্ষোভ দমনে পুলিশ লাঠি, চাবুক এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আকাশের দিকেও গুলি ছোড়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ফটোগ্রাফারের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিক্ষোভকারীদের মারধর ও তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তিনি বলেন, তার চোখের সামনে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও বিক্ষোভের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। ভিডিওতে কয়েকজন নারীকে মারধর না করার জন্য চিৎকার করতে শোনা যায়। একই সময় কাছাকাছি স্থান থেকে গুলির শব্দও শোনা যায়।
তবে হেরাত পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হোসেনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সীমিত। সূত্র: বিবিসি
ভোরের আকাশ/সু.পা