জাপানে প্রবল বর্ষণে ৪ জন নিহত, বিমানবন্দরে আটকা ৭ হাজার যাত্রী

জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বর্ষণে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার মানুষ আটকা পড়েন। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরকারি বিভিন্ন ভবনে অবস্থান নিতে হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে টোকিওর পূর্বে অবস্থিত চিবা প্রিফেকচারে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পর ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। চিবা ও আশপাশের এলাকায় চার লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ৪৫ হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
চিবা এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত সাধারণত পুরো আগস্ট মাসে যে পরিমাণ হয়ে থাকে, তার কাছাকাছি।
এবারই প্রথম চিবা প্রিফেকচারের জন্য ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা বা লেভেল-৫ সতর্কতা জারি করেছে জাপান আবহাওয়া সংস্থা।
ভারী বৃষ্টির পর ইচিকাওয়া শহরের একটি সড়কে ভাসমান অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, সাকুরা শহরে বন্যার পানিতে একটি গাড়ি আটকে ৬৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বন্যার সময় গাড়ি থেকে বের হতে না পেরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার সকালে চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অতীতে অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগে কখনো হননি।
প্রবল বৃষ্টির কারণে টোকিওর অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নারিতায় প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাত কাটাতে বাধ্য হন। এ ছাড়া চিবা প্রিফেকচারাল সরকারি ভবনে প্রায় ১ হাজার ৭০০ যাত্রী আশ্রয় নেন।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, চিবার একটি স্থাপনায় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তৈরি ছিদ্র দিয়ে প্রবল বেগে পানি বের হচ্ছে। পানির স্রোত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা পাশের পাঁচতলা ভবনের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যায়।
শুক্রবার নাগাদ বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমে এলেও চিবা অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
ভোরের আকাশ/সু.পা