শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতের নৌবহরে যুক্ত হচ্ছে জার্মানির ৬ অত্যাধুনিক সাবমেরিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির কাছ থেকে ছয়টি অ্যাডভান্সড কনভেনশনাল সাবমেরিন কিনতে যাচ্ছে ভারত। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ৭০ হাজার কোটি রুপি বাজেট ধরা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাবমেরিন ক্রয়সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। 

আগামী সপ্তাহে কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই ‘প্রজেক্ট-৭৫ ইন্ডিয়া’ বা ‘পি-৭৫ ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত প্রস্তাবটি অনুমোদন হতে পারে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে জার্মানির সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (টিকেএমএস) এবং মুম্বাইভিত্তিক জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড যৌথভাবে সাবমেরিনগুলো নির্মাণ করবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশ্বে সামরিক সাবমেরিন মূলত দুই ধরনের—পারমাণবিক ও কনভেনশনাল বা প্রচলিত। পারমাণবিক সাবমেরিন পরমাণু চুল্লি থেকে উৎপাদিত শক্তিতে পরিচালিত হয়। এগুলোর আকার তুলনামূলক বড় এবং দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে পারে। ফলে মাসের পর মাস পানির ওপরে না উঠেও অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব।

অন্যদিকে, কনভেনশনাল সাবমেরিন পানির নিচে চলাচলের জন্য ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক মোটর এবং ব্যাটারি চার্জের জন্য ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করে। পারমাণবিক সাবমেরিনের তুলনায় এসব সাবমেরিন আকারে ছোট ও অপেক্ষাকৃত কম শব্দযুক্ত। তবে পানির নিচে টানা অবস্থানের সময় সীমিত।

ভারত যে ছয়টি সাবমেরিনের জন্য জার্মানির সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে, সেগুলো টাইপ-২১৪ শ্রেণির অ্যাডভান্সড কনভেনশনাল সাবমেরিন। ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন’ (এআইপি) প্রযুক্তির কারণে এ ধরনের সাবমেরিন দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে পারে।

টিকেএমএস ও মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডের যৌথ অংশীদারত্বে নির্মিতব্য সাবমেরিনগুলোর দৈর্ঘ্য হবে ২১৯ দশমিক ০৫ ফুট বা ৬৬ দশমিক ৭৮ মিটার। এগুলোর প্রস্থ প্রায় ২১ দশমিক ২৩ ফুট এবং উচ্চতা ২০ দশমিক ২২ ফুট হওয়ার কথা রয়েছে।

সাবমেরিনগুলো এইচওয়াই-১০০ ফেরোম্যাগনেটিক ইস্পাত দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সাবমেরিনগুলোর চৌম্বকীয় স্বাক্ষর তুলনামূলকভাবে কম থাকবে এবং শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়ানোর সক্ষমতা বাড়বে।

প্রস্তাবিত সাবমেরিনগুলোর অস্ত্রসজ্জায় ছয়টি ৫৩৩ মিলিমিটার টর্পেডো টিউব, হেভিওয়েট ব্ল্যাক শার্ক টর্পেডো, এসএম-২৯ এক্সোসেট জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সংস্করণ থাকার কথা রয়েছে।

জুলাই মাসে ভারতে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ফিলিপ অ্যাকারম্যান জানিয়েছিলেন, শিগগিরই সাবমেরিন ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে একই সময়ে নিজেদের নৌ সক্ষমতা বাড়াতে পারবে ভারত। এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও চীনের নৌ সক্ষমতা মোকাবিলায় ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে দেশটির প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ভারতীয় নৌবাহিনী উন্নত প্রযুক্তির সাবমেরিন সংগ্রহের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছয়টি সাবমেরিন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পটি ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ (এওএন) পর্যায়ে তালিকাভুক্ত করা হয়। সে সময় প্রকল্পটির প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৪৩ হাজার কোটি রুপি।

আরও পড়ুন

ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭

এর আগে আশির দশকের গোড়ার দিকে জার্মানির হাউন্ডসওয়ার্ক-ডয়েচে ভেরফট (এইচডিডব্লিউ) থেকে চারটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন কিনেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। প্রায় দেড় দশক আগে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ডিসিএনএসের সঙ্গে নকশা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তির ভিত্তিতে ছয়টি কলভরি শ্রেণির স্করপেন সাবমেরিন নির্মাণ শুরু করে ভারত।

ওই প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রজেক্ট-৭৫’। এ সিরিজের প্রথম স্টেলথ সাবমেরিন আইএনএস কালভারিকে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২০ সালের নভেম্বরে এ সিরিজের শেষ সাবমেরিনটি কমিশন করা হয়। এরপর গত পাঁচ বছরে নতুন কোনো সাবমেরিন ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়নি। সূত্র : এনডিটিভি

ভোরের আকাশ/সু.পা

ভারতের নৌবহরে

শেয়ার করুন: