প্যারিসের কাছে দাবানলে পুড়েছে ১৩০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল, গ্রেফতার ২

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণে ফঁতেনব্লো বনে ছড়িয়ে পড়া দুটি দাবানলে ১ হাজার ৩০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় অগ্নিসংযোগের সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১২ জুলাই) প্যারিস থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ফঁতেনব্লো বনে আগুনের সূত্রপাত হয়। একসময় এই বন ছিল ফরাসি রাজপরিবারের শিকারের এলাকা। বর্তমানে বনাঞ্চল ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি শান্ত-নিরিবিলি গ্রাম।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন তাপপ্রবাহের মধ্যে দাবানল দ্রুত ইউনেস্কোর জীবমণ্ডল সংরক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে দীর্ঘ ছুটির ভ্রমণ মৌসুমে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, সোমবার (১৩ জুলাই) দিনভর আকাশে অগ্নিনির্বাপক বিমান এবং মাটিতে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রথম দাবানলে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়।
তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে নতুন করে আরেকটি দাবানলের সূত্রপাত হয়। এতে আরও প্রায় ১০০ হেক্টর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের ঝুঁকি এড়াতে ফঁতেনব্লো ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই সন্দেহভাজনের একজনের বয়স ১৮ বছর। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তার হাতে কালির দাগ ছিল এবং তার কাছে একটি লাইটার পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ক্লেমঁ বোয়ের জানান, রোববার রাতে বনের ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়ার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার সতর্ক অবস্থায় ছিলেন।
তিনি বলেন, “অন্য সবার মতো আমরাও প্রস্তুত আছি। যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একটি ব্যাগও গুছিয়ে রেখেছি। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।”
দাবানল নিয়ন্ত্রণে বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলে প্রথমবারের মতো চারটি কানাডেয়ার অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ড্যাশ বিমান এবং তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা জ্যাঁ-মার্ক সিকার জানান, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আকাশ থেকে মোট ১৮৭ বার পানি ফেলা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাতেও প্রায় ৬০০ দমকলকর্মী মোতায়েন ছিলেন।
তিনি বলেন, “আগুন এখনো ছড়িয়ে পড়ছে।” সোমবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য খুব একটা অনুকূলে ছিল না। যদিও কিছু সময়ের জন্য আগুনের তীব্রতা কমেছিল।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, “ব্যতিক্রমধর্মী বড় এই দাবানল” মোকাবিলায় সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ বলেন, আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার মিটার এলাকার মধ্যে ১০টি পৃথক স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যা অগ্নিসংযোগের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
এদিকে, তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ফ্রান্সের তৃতীয় তাপপ্রবাহ। গত এক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা