শিগগিরই আরব সাগর থেকে শত্রুদের হটিয়ে দেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি

ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় জলসীমা ও কৌশলগত প্রণালিগুলো থেকে ‘শত্রু পক্ষকে’ পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আরব সাগর থেকেও তাদের বিতাড়িত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইরান-ইরাক যুদ্ধ স্মরণে আয়োজিত 'পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ' এবং ২০২৪ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর নিহত হওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন
ইরানের প্রতিরক্ষা সপ্তাহ ১৯৮০ সালে তৎকালীন ইরাকি শাসক সাদ্দাম হোসেনের ইরানে যুদ্ধ শুরুর স্মরণে পালিত হয়। একই সঙ্গে লেবাননের প্রয়াত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ হত্যার দ্বিতীয় বার্ষিকীও এ সময় স্মরণ করা হয়।
খামেনি বলেন, একসময় দক্ষিণ ইরানের দুই সাগর শত্রু বাহিনীর জন্য ‘খেলার মাঠের’ মতো ছিল। কিন্তু সাহসী ইরানি যোদ্ধা এবং হরমুজ প্রণালির রক্ষকদের কাছ থেকে ‘বেদনাদায়ক আঘাত’ পাওয়ার পর তারা এখন আরব সাগরের ওপারে যাওয়ার সাহস করে না।
তিনি বলেন, যখনই তারা এমন ঝুঁকি নিয়েছে, তখন নিজেরাই ক্ষতির মুখে পড়েছে। আরব সাগর থেকেও তাদেরকে পুরোপুরি হটিয়ে দিতে বেশি সময় লাগবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুদ্ধের দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে খামেনি বলেন, ইরানজুড়ে বিপ্লবের সূর্যের উষ্ণ রশ্মি জাতীয় সংহতি এবং বিপ্লবী ইসলামের আদর্শ ও পথের প্রতি আনুগত্যের অনুভূতি ছড়িয়ে দিয়েছিল। এর ফলে পুরোনো ও নতুন ধরনের আধিপত্য এবং ঔপনিবেশিকতার ‘বরফ গলতে’ শুরু করে।
তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়কে ‘অন্ধকার দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন খামেনি। তিনি বলেন, তৎকালীন ইরানি সম্রাটের কাছে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর রাষ্ট্রদূতেরা নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন এবং সম্রাট ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় তা বাস্তবায়ন করতেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব সেই ব্যবস্থার অবসান ঘটায় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি আধিপত্য বিস্তার করতে চাওয়া শক্তিগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। কারণ তারা ইরানের সম্পদের ওপর নজর রেখেছিল এবং বছরের পর বছর দেশটির মানুষের ওপর বিভিন্ন ধরনের অবিচার করে সেই সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
ভোরের আকাশ/আ.র