শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানের ক্ষমতার লড়াই, শেষ কথা বলছেন কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই তেহরানের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া নতুন এক রাজনৈতিক সংকট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে এখন আর আগের মতো একক কোনও কর্তৃত্ব নেই, বরং দেশটির বিভিন্ন ক্ষমতাধর কেন্দ্রের মধ্যে মতপার্থক্য এতটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনও চুক্তিতে পৌঁছানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

গত শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি জানান, মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি খুলে দেওয়ার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তার এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো দ্রুত এই দাবির সমালোচনা শুরু করে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি আরাঘচির এই বক্তব্যকে ‘খারাপ ও অসম্পূর্ণ’ বলে অভিহিত করে।

ফার্সসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ‘বিভ্রান্তিকর অস্পষ্টতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের সাফ কথা, এই আন্তর্জাতিক নৌপথে কোন জাহাজ চলবে আর কোনটি চলবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সরকারপন্থি বিশ্লেষকদের কাছ থেকে এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, তেহরানের নীতি-নির্ধারণী মহলে বড় ধরনের বিভাজন রয়েছে। একদিকে যেমন ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত বিরোধে জড়িত থাকার বিষয়ে ঐকমত্য আছে, অন্যদিকে সেই বিরোধ পরিচালনার ধরন নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে শূন্যতা

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পুরো রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর একধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। যদিও নতুন নেতৃত্বের কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, তবুও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এখন বিভিন্ন কেন্দ্রের মধ্যে বিভক্ত। খামেনির সময় যে একক ও শক্তিশালী কর্তৃত্ব ছিল, এখন তার অনুপস্থিতি অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে আরও দৃশ্যমান ও জটিল করে তুলেছে। 

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে খামেনির উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত তার ছেলে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার খবর বের হওয়ার পর মোজতবা কোথায় এবং কীভাবে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন, তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রভাব যে বেড়েছে, তা এখন স্পষ্ট। ইরান যখন সাম্প্রতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতি চলছে, তখন জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কৌশল উভয় ক্ষেত্রেই আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

কূটনীতি নাকি সামরিক শক্তি: দ্বিধাবিভক্ত নেতৃত্ব

এই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে দুটি ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি পক্ষ হলো কূটনীতিক ঘরানার, যার নেতৃত্বে আছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার মতে, কূটনীতি মানেই আত্মসমর্পণ নয়, বরং এটি ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি কৌশল। শনিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আলোচনা হলো লড়াই করার একটি কৌশল।’ তার মতে, যুদ্ধের ময়দানে ইরান যে ‘সাফল্য’ পেয়েছে, কূটনীতির মাধ্যমে তা সংহত করাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অন্যদিকে, পার্লামেন্টের অতি-রক্ষণশীল ‘পায়দারি’ উপদল আলোচনার বিষয়টিতেই চরম অনীহা প্রকাশ করছে। এমপি আমির হোসেন সাবেতি সরকারপন্থি এক সমাবেশে সরাসরি বলেছেন, ‘একজন কূটনীতিকের দায়িত্ব হলো রেড লাইন রক্ষা করা, কোনও শর্তে চুক্তিতে পৌঁছানো নয়।’ তিনি আলোচনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, আমেরিকা ও ইসরায়েলের শত্রুতা শেষ হবে না।’

পারমাণবিক সমঝোতার ক্ষেত্রেও এই কঠোরপন্থিরা কোনও ছাড় দিতে নারাজ। সাবেতির দাবি, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত একটি কৌশলগত সম্পদ, যা আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কাজ করে। তাই এই সম্পদ নিয়ে দরকষাকষির কোনও অধিকার আলোচক দলের নেই।

আলোচনা কোথায় যাচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান জানিয়েছে, অবরোধ বহাল থাকলে তারা পরবর্তী দফার আলোচনায় যাবে না। এদিকে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও তা কতদিন থাকবে, তা স্পষ্ট করেননি। আলোচনার টেবিলে বসেও ইরান কি কোনও সমাধানে পৌঁছাতে পারবে?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক দলগুলো আলোচনার টেবিলে বসলেও আসল সিদ্ধান্তগুলো সেখানে নেওয়া হচ্ছে না। তেহরানের ভেতরে নিরাপত্তা কাঠামোর কঠোর অবস্থান আলোচনার পরিসরকে সংকুচিত করে ফেলেছে। পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এবারের ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনার আগের দিনগুলোতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী যে ধরনের কঠোর বার্তা পাঠিয়েছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় আলোচনার টেবিলে নমনীয় হওয়ার কোনও ইচ্ছা তাদের নেই। সূত্র: আল মনিটর

ভোরের আকাশ/এনএস

ক্ষমতার লড়াইইরান

শেয়ার করুন: