ব্রিকসের মঞ্চে কি গলবে ঢাকা-দিল্লির বরফ, তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির

আগামী সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে গত কয়েক বছরের অস্থির সম্পর্কের পর এই পদক্ষেপে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের এটিই হবে প্রথম সরাসরি বৈঠক।
উন্নয়নশীল শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করায় ব্রিকসের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বিশেষ অতিথি হিসেবে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারতের পাঠানো আমন্ত্রণপত্রটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে দুই পক্ষই। লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক হার্শ প্যান্ট বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর নির্বাচিত নতুন সরকার আসার পর ভারত ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। দুই দেশই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এবং সহযোগিতার সুফল বজায় রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
পদত্যাগ করে ইনফ্লুয়েন্সার হোন: মোদিকে খোঁচা ‘ককরোচ’ দিপকেরপদত্যাগ করে ইনফ্লুয়েন্সার হোন: মোদিকে খোঁচা ‘ককরোচ’ দিপকের
সাতটি দেশের জোট বিমসটেক অঞ্চলটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী বছর এটি প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্ণ করবে এবং ঢাকায় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিয়েছেন, যাকে মন্ত্রী মর্যাদা দিয়েছে দিল্লি। যা সম্পর্ক জোরদারে দিল্লির সদিচ্ছা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, বাংলাদেশের এখন বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। দুই দেশের বাণিজ্য অংশীদারত্ব পুনরায় জোরদার করা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা এবং প্রণালি সংকটের এই সময়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। লন্ডনভিত্তিক গবেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার জানান, পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় দুই দেশের উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে উভয় দেশের একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানে আসা উচিত।
এছাড়া তারেক রহমানের সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে, যার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তার বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮৫ সালে গঠিত হলেও ২০১৬ সালে উরি হামলার পর ভারত সম্মেলন বয়কট করলে সার্কের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বেগবান হবে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ভোরের আকাশ/এনএস