শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ হবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে না গেলে আবারও সামরিক অভিযান জোরদারের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, কূটনৈতিকভাবে সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙতে ইরান ‘সময়মতো ও নির্ভুল’ সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত। সোমবার (১৮ আগস্ট) তিনি এ কথা বলেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা অগ্রগতি না হলে ইরান ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে চলে যাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জুনে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

থেমে গেছে শান্তি আলোচনা
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। ১৭ জুন সই হওয়া ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা ছিল।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

ইরানের দাবি, সমঝোতা স্মারকের একটি ধারা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপর হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালায়।

ইরানের দাবি, এসব জাহাজ অনুমোদনহীন পথে চলাচল করছিল। জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, জুনের চুক্তি আর কার্যকর নেই। ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ভবিষ্যতে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।

গোপনে যোগাযোগের চেষ্টা?
এর মধ্যেই কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছে।

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা একজন ইরাকি কুর্দি নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আইআরজিসির কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির কাছে মার্কিন বার্তা পৌঁছানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

পরে ফক্স নিউজ জানায়, ট্রাম্পও ওই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ ছিল, আলোচনায় থাকা ইরানি কর্মকর্তারা আসলে আইআরজিসির অবস্থান কতটা প্রতিনিধিত্ব করছেন। তবে ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার বলেছেন, ইরান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয় হতে পারে।

ওমানকে নিয়েও ট্রাম্পের হুমকি
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যেও আলাদা আলোচনা চলছে। ইরানের দাবি, প্রণালী পরিচালনা নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে ওমান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদার। এ নিয়ে ওমানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওমান হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোনোভাবে বাধা সৃষ্টি করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর হামলা চালাতে পারে।

আরও পড়ুন

জাপানে কর্মী নিয়োগ ও বিনিয়োগে রাজশাহীর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে
যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশটি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা, জ্বালানি সংকট এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল। যুদ্ধের পর দেশটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে বাণিজ্য ও উৎপাদন। একই সঙ্গে এখন পুনর্গঠনের বাড়তি খরচও বহন করতে হচ্ছে ইরানকে।

ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে দেশে নতুন করে বিক্ষোভ তৈরি হতে পারে এবং সরকারের ওপর চাপও বাড়তে পারে। সূত্র: রয়টার্স

ভোরের আকাশ/সু.পা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা, পুরোপুরি আক্রমণাত্মক

শেয়ার করুন: